প্রকাশ :: ... | ... | ...

‘আওয়ামী লীগ’ আখ্যা দিয়ে সিপিবি কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ


সংযুক্ত ছবি

রাজধানীর পুরানা পল্টনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে সোমবার রাতে এ হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেছেন ছাত্র ইউনিয়ন ও যুব ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, হামলায় কয়েকজনকে মারধর করা হয়েছে এবং যুব ইউনিয়নের দুজন আহত হয়েছেন। তবে হামলা ও আহত হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শী ও সিপিবির নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি দীপক শীলকে পুলিশ ছেড়ে দেওয়ার পর তাঁকে নিয়ে ছাত্র ও যুব ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল বের করেন। মিছিলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে একদল ব্যক্তির সঙ্গে তাঁদের উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সিপিবির কেন্দ্রীয় কার্যালয় পর্যন্ত গড়ায়। সোমবার রাত ১০টার দিকে পুরানা পল্টনের মুক্তি ভবনে সিপিবির কার্যালয়ের সামনে হামলা শুরু হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলাকারীরা প্রায় এক ঘণ্টা কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় সিপিবির দুজন নেতাকর্মীকে মারধর করা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাহীর শাহরিয়ার অভিযোগ করেন, তাঁদের কার্যালয়ে হামলা হয়েছে। তিনি বলেন, হামলাকারীদের মধ্যে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা ছিলেন বলে তাঁরা ধারণা করছেন। পল্টন থানা বিএনপি বা সহযোগী সংগঠনের লোকজনও থাকতে পারেন বলে তাঁর সন্দেহ। হামলার কারণ সম্পর্কে মাহীর শাহরিয়ার বলেন, তাঁদের আওয়ামী লীগ হিসেবে পরিচিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ঘটনার সময় তিনি কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কার্যালয়ের ভেতরে ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীরাও সেখানে আটকা পড়েছিলেন বলে জানান তিনি। সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাদিকুর রহমান শামীমও হামলার অভিযোগ করেন। তাঁর ভাষ্য, তাঁরা ১০ থেকে ১২ জন কার্যালয়ের ভেতরে ছিলেন এবং দরজা বন্ধ করে রেখেছিলেন। হামলাকারীরা ভবনের প্রবেশপথে ধাক্কাধাক্কি করছিলেন। নিচতলায় পুলিশ থাকলেও তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন বলে জানান তিনি। সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কাফী রাত ১১টা ১০ মিনিটের দিকে বলেন, হামলার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন। তখন পর্যন্ত তিনি বিস্তারিত জানতে পারেননি। তাঁর ভাষ্য, একদল লোক দলীয় কার্যালয়ে এসে হামলা চালিয়েছে। যুব ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, হামলায় তাঁদের দুজন আহত হয়েছেন এবং পুলিশ তাঁদের আহত অবস্থায় নিয়ে গেছে। তবে তাঁদের কোথায় নেওয়া হয়েছে বা চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি। পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আলম বলেন, সোমবার বিকেলে ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি দীপক শীলকে আটক করা হয়েছিল। পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হলে নেতাকর্মীরা গলায় ফুলের মালা পরিয়ে সিপিবির কার্যালয়ের সামনে আনন্দ মিছিল করেন। ওই মিছিল থেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয় বলে দাবি করেন তিনি। তবে ওসি হামলা ও আহত হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর ভাষ্য, ঘটনাস্থলে পুলিশ রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। সিপিবির কার্যালয় পুরানা পল্টনের মুক্তি ভবনের ষষ্ঠ ও সপ্তম তলায়। একই ভবনের অষ্টম তলায় ছাত্র ইউনিয়ন ও যুব ইউনিয়নের কার্যালয়। ফলে কার্যালয়ের সামনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় একাধিক সংগঠনের নেতাকর্মী সেখানে আটকা পড়েন বলে তাঁদের পক্ষ থেকে জানানো হয়। দীপক শীলকে আটকের ঘটনা সুনামগঞ্জে নারী বাউলশিল্পীদের গান গাইতে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে সোমবার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে মীনা বাজারের সামনে মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন সংস্কৃতিকর্মীরা। সেখানে জড়ো হলে পুলিশ কর্মসূচিতে বাধা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি দীপক শীলকে পুলিশ ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়। পরে রাত ৯টার দিকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তাঁর মুক্তির পর ছাত্র ও যুব ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা পল্টনে আনন্দ মিছিল করেন। সেই মিছিলকে কেন্দ্র করেই সিপিবি কার্যালয়ের সামনে উত্তেজনা ও হামলার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে হামলার প্রকৃতি ও জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। ছাত্র ও যুব ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের লোকজনকে দায়ী করলেও পুলিশ বলছে, স্লোগানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তবে হামলা বা আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি বলে তাদের দাবি। হামলার অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের অগ্রগতি, আহতদের অবস্থা এবং কাউকে আটক করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া প্রয়োজন।