ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় নিউমার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ ৯ বাংলাদেশির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। একই সঙ্গে কলকাতায় নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত সরকার ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে শহরটির নাগরিক সেবাখাতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দলটি। বুধবার (১৯ আগস্ট) এক বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব শাহ ইফতেখার তারিক বলেন, কলকাতার সেবাখাত অনেকাংশে বাংলাদেশের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ভারত সরকার সেখানে নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ব্যর্থতায় ঝুঁকি নিয়েই সেবাখাত গড়ে উঠেছে। এর ফলে নয় বাংলাদেশিকে প্রাণ দিতে হয়েছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে শাহ ইফতেখার তারিক বলেন, হতাহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব ভারত ও বাংলাদেশ—দুই সরকারকেই নিতে হবে। তিনি বলেন, জানা যাচ্ছে, নিহতরা চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও বাংলাদেশের নাগরিকদের চিকিৎসার মতো মৌলিক সেবা নিতে পাশের দেশে যেতে হচ্ছে—এটি হতাশাজনক। তার মতে, এটি বাংলাদেশের চিকিৎসাখাতের ব্যর্থতার প্রতীক। স্বাধীনতার পর যারা সরকার পরিচালনা করেছেন, তাদের সবাইকে এ ব্যর্থতার দায় বহন করতে হবে। শাহ ইফতেখার তারিক আরও বলেন, বাংলাদেশের নাগরিকদের কোনো দেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রাথমিক খোঁজখবর নেওয়া সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। কলকাতার সেবাখাতের ভঙ্গুর অবস্থা নিয়ে সরকার নাগরিকদের কোনো সতর্কবার্তা দিয়েছে বলে তারা জানেন না। এ কারণে কলকাতার ওই অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশিদের মৃত্যুর ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারেরও নৈতিক দায় রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। শু/আজা