প্রকাশ :: ... | ... | ...

চব্বিশের আন্দোলন ‘ফাইনাল যুদ্ধের রিহার্সেল’: শফিকুর রহমান


সংযুক্ত ছবি

‘ফ্যাসিস্টদের’ দেশে ফেরাতে বয়ান তৈরির পরিকল্পনা চলছে দাবি করে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে চূড়ান্ত যুদ্ধ হিসেবে দেখলে চলবে না। তাঁর ভাষায়, ওই আন্দোলন ছিল ‘ফাইনাল যুদ্ধের রিহার্সেল’। রোববার ঢাকায় আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তব্য দেওয়ার সময় শফিকুর রহমান বলেন, “মূল যুদ্ধের আগে বাহিনী তৈরি হয়, তাদের কসরত করতে হয়, রিহার্সেল দিতে হয়। এরা যেন চব্বিশকে ফাইনাল যুদ্ধ মনে না করে, এটা ছিল ফাইনাল যুদ্ধের রিহার্সেল।” ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান। আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাও ভারতে অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন সময় সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর তাঁরা আশা করেছিলেন দীর্ঘদিনের ‘ফ্যাসিবাদের’ আবর্জনা পরিষ্কার হবে। কিন্তু তাঁর মতে, বাস্তবে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। তিনি বলেন, “চব্বিশের পরে আমরা মনে করেছিলাম ফ্যাসিবাদের যে পঙ্কিলতা, যে ময়লা, যে আবর্জনা, যুগ যুগ ধরে তৈরি হয়েছিল তা এখন পরিষ্কার হয়ে যাবে। কিন্তু আমরা কি দেখতে পাচ্ছি? আসলেই কি কিছু পরিষ্কার হয়েছে? বরঞ্চ আবর্জনার কলেবর আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।” ফ্যাসিবাদকে কোনো নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে যুক্ত না করে এটিকে ‘সংক্রামক ব্যাধি’ হিসেবে উল্লেখ করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদ কোনো নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে যায় না, ফ্যাসিবাদ একটা সংক্রামক ব্যাধি। এটা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সংক্রমিত হয়, এই ভাইরাস যার ওপরেই ভর করবে সেই ফ্যাসিবাদী।” ‘ফ্যাসিস্টদের’ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বয়ান তৈরির চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে ২০২৪ সালের আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, “চব্বিশে যে মানুষগুলো জেগে উঠেছিল তারা সবাই মারা যায়নি, তারা ঘুমিয়ে পড়েনি, তারা সজাগ দৃষ্টিতে সবকিছু প্রত্যক্ষ করছে।” শফিকুর রহমান জুলাই স্মৃতি জাদুঘর সচেতন নাগরিকদের ঘুরে দেখার আহ্বান জানান। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সেখানে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস তুলে ধরার ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, “জাতির দুঃখের ঘটনাগুলাকে এখানে তুলে ধরা হয়েছিল—বিশেষ একটি দেশকে, রাষ্ট্রকে খুশি করার জন্য তার অনেক উপাদান এখান থেকে গায়েব করে দেওয়া হয়েছে।” জামায়াতের আমির আরও বলেন, ১৯৪৬-৪৭ সাল থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অনেকের স্মৃতিও সেখানে তুলে ধরা হয়েছিল। পরবর্তীতে সেগুলোর কিছু সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন নির্যাতিত মানুষের স্মৃতিচিহ্ন ও ছবি সেখানে রাখা হলেও একটি নির্দিষ্ট দলের লোকদের স্মৃতি রেখে অন্যদের স্মৃতি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন শফিকুর রহমান। সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে নিহত বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী খাতুনের স্মৃতিও সরিয়ে ফেলার অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, “এটি ভালো লক্ষণ নয়।” বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসা বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের বিরুদ্ধে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, “ক্ষমতায় যারা আসে, আইসাই বলে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে, কিন্তু এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাস বলে, সবাই ইতিহাস বিকৃতির নায়ক ছিল। এই অপকর্ম থেকে কেউ বের হতে পারেনি।” সম্প্রতি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের প্রেক্ষাপটেও তাঁর বক্তব্যে শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ আসে। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। জুলাই আন্দোলনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অডিও কলে যুক্ত হয়ে তিনি বক্তব্য দেন এবং ডিসেম্বরে দেশে ফেরার কথা জানান। অন্যদিকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের আলোচনার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। তাঁর সম্ভাব্য সফর নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি শেখ হাসিনা ও ভারতে অবস্থানরত অন্যদের দেশে ফেরানোর দাবিও জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ সরকার। ‘রাষ্ট্র সংস্কারে রাসূল (সা.)-এর নীতি ও আদর্শ’ শীর্ষক এই সেমিনার ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয় সিরাত উদযাপন কমিটি। ঢাকার ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠানটি হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান আ ন ম রফিকুর রহমান মাদানী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষক আ ক ম আবদুল কাদের। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন এবং জাতীয় সিরাত উদযাপন কমিটির সমন্বয়ক আব্দুল মান্নান। সিরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতায় দুই গ্রুপে বিজয়ী ২০ জনের মধ্যে পুরস্কারও বিতরণ করা হয়।