প্রকাশ :: ... | ... | ...

নানাবাড়ি অঞ্চলের সব প্রার্থীর মুখে হাসি দেখতে চান তারেক রহমান


সংযুক্ত ছবি

নানাবাড়ির আত্মীয় হিসেবে বৃহত্তর নোয়াখালীর সব কয়টি আসনে ধানের শীষের প্রার্থীদের বিজয়ী করার অনুরোধ জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার বিকালে ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে নির্বাচনি সমাবেশে তিনি এ অনুরোধ জানান। তারেক রহমান বলেন, “আসসালামু আলাইকুম, কেমন আছেন সবাই? বহু বছর পরে ফেনীতে এসেছি। আজকে সকালে আমার প্রথম মিটিংটা ছিল চট্টগ্রামে…চট্টগ্রামের সাথে আমার একটা আবেগের সম্পর্ক রয়েছে। আর ফেনীর সাথে রয়েছে আমার একটা আত্মীয়তার সম্পর্ক; তথা গ্রেটার নোয়াখালীর সাথে রয়েছে একটা আত্মীয়তার সম্পর্ক। আমার নানার বাড়ি এখানে।’ বিএনপির সদ্য প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের বাড়ি ফেনীতে। ইস্কান্দার পরে জলপাইগুড়িতে বোনের বাসা থেকে পড়ালেখা করেন। সেখানে চা ব্যবসায় জড়ান ইস্কান্দার; বিয়েও করেন তিস্তা পাড়ের শহরটিতে। অবিভক্ত ভারতের জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন খালেদা জিয়া। দেশভাগের পর পরিবারটি দিনাজপুর শহরে স্থানান্তর হয়। তারেক রহমান বলেন, “বক্তব্যের প্রথমেই বলেছি যে, ফেনী-লক্ষ্মীপুর-নোয়াখালী এখানকার মানুষের যেমন বিএনপির উপরে একটা হক বা দাবি আছে, ঠিক বিএনপিরও এই তিন জেলার মানুষের উপরে একটা হক বা দাবি আছে। কি সেই দাবি? ধানের শীষকে নির্বাচিত করা। কারণ এটা খালেদা জিয়ার এলাকা। খালেদা জিয়া এই এলাকার সন্তান। খালেদা জিয়া এই এলাকার মেয়ে। স্বাভাবিকভাবেই ধানের শীষ নির্বাচিত হলে খালেদা জিয়ার সম্মান বৃদ্ধি পাবে। এবং আমি মনে করি এই এলাকার মুরুব্বিসহ মা-বোনেরাসহ তরুণ যুবকসহ সকলেই তাদের এলাকার সন্তান খালেদা জিয়ার সম্মান আসমানের উপরে তুলে ধরবে ইনশাআল্লাহ।” উপস্থিত হাজার হাজার কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “আপনাদের যেমন দাবি আছে বিএনপির কাছে, ঠিক একইভাবে বিএনপিরও কিন্তু দাবি আছে আপনাদের কাছে; ঠিক বলেছি কি না? ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরের মানুষের যেমন বিএনপির কাছে দাবি আছে বিএনপির কাছে; ঠিক একইভাবে বিএনপিরও কিন্তু দাবি আছে আপনাদের কাছে। …কী সেই দাবি? ধানের শীষকে জয়যুক্ত করা।” ফেনীতে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা ও ইপিজেড স্থাপনের বিষয়ে স্থানীয়দের দাবির বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘‘রফিকুল আলম মজনু একটু আগে বলল যে, ফেনীতে একটি মেডিকেল কলেজ দরকার। ইনশাআল্লাহ আমরা মেডিকেল কলেজ করব, ‘কিন্তু একই সাথে আমরা আপনাদের যাতে চিকিৎসা সুবিধা পান, বিশেষ করে গ্রামের মানুষ, বিশেষ করে মহিলা এবং নারীরা এবং শিশুরা যাতে করে চিকিৎসা সুবিধা পায়, তার জন্য আমরা সারাদেশে গ্রামে গ্রামে হেলথকেয়ারার আমরা নিয়োগ দিতে চাই। এই হেলথকেয়ারারটা কী? এখানে অনেক মুরুব্বি উপস্থিত আছেন। আপনাদের মনে আছে, শহীদ জিয়াউর রহমানের সময় পল্লী চিকিৎসক ছিল, পল্লী চিকিৎসক নাম শুনেছেন? এই পল্লী চিকিৎসকের মতন আমরা হেলথকেয়ারার দিতে চাই— যাদের কাজ হবে ঘরে ঘরে গিয়ে মা-বোনদের কাছে স্বাস্থ্য সেবা যাতে পৌঁছে দিতে পারে, যাতে করে ছোটখাট অসুখ-বিসুখের চিকিৎসা এই হেলথকেয়ারাররা মা বোন এবং শিশুদেরকে ঘরে ঘরে গিয়ে সেবা দিবে। আর তাদেরকে (মা-বোন-শিশু) কষ্ট করে হাসপাতালে আসতে হবে না যদি বড় কোনো অসুখ না হয়।” চট্টগ্রাম পলোগ্রাউন্ড ময়দানে সমাবেশ শেষ করে ফেনী পাইলট স্কুল মাঠে নির্বাচনি সমাবেশস্থলে এসে তারেক রহমান পৌঁছান ৫টা ৫৫ মিনিটে। সেখানে পৌঁছে মাগরিবের নামাজ আদায় করে মঞ্চে ওঠেন তিনি। ফেনীর সমাবেশ পরে তারেক রহমান যাবেন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে। এরপর কুমিল্লার সোয়াগাজী, দাউদকান্দি এবং নারায়ণগঞ্জের বালুর মাঠে নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত ২২ জানুয়ারি সিলেট থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এটি রাজধানীর বাইরে তার দ্বিতীয় প্রচারাভিযান। ফেনী জেলা আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহারের সভাপতিত্বে ও জেলা সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলালের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে বক্তব্য দেন—মোহাম্মদ শাহজাহান, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, জয়নুল আবদিন ফারুক, জয়নাল আবেদীন (ভিপি জয়নাল), মাহবুব উদ্দিন খোকন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজাম, রফিকুল আলম মজনু, মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন সেলিম। এছাড়া বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা রফিকুল ইসলাম, রেহানা আখতার রানু, হারুনুর রশীদ হারুন, বেলাল আহমেদ, শাহাবুদ্দিন সাবু, শাহানা আখতার সানু, মেজবাহ উদ্দিন খান, আবদুল লতিফ জনি, তাবিথ আওয়াল,ম আবুল তালেব, মশিউর রহমান বিপ্লব, জালাল উদ্দিন মজুমদার, নাছির উদ্দিন নাছির, ইয়াসীন আলী।