‘নিষিদ্ধ সংগঠনের’ প্রধানের বক্তব্য সংবাদমাধ্যমে প্রচার করতে সাংবাদিকেরা আগ্রহী কি না—এমন প্রশ্ন তুলেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনের প্রসঙ্গে শনিবার চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ভেরি ক্লিয়ারলি বক্তব্য দিয়েছে। আমি ওই অবস্থানেই থাকতে চাই।” একই সঙ্গে আদালতের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি। ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, “একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রধান কী বক্তব্য দিতে পারেন কি না? বা আপনারাও কি একজন সাসপেক্টেড এবং একজন ক্রিমিনাল—তার বক্তব্য প্রচার করার জন্য আপনাদেরও মনে চায় কি না? সেটাও তো আমাদের প্রশ্ন থাকতেও পারে।” মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় পাওয়া শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। বুধবার দিল্লিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন। এর আগে তাঁর ওই বক্তব্য প্রচার নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছিল সরকার। প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এর আগে সতর্ক করে বলেছিলেন, আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে শেখ হাসিনার বক্তব্যের সংবাদ প্রকাশ করা হলে তা আদালতের রায়ের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সব ধরনের কার্যক্রমে ২০২৫ সালের মে মাসে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংশোধনী এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ ও দলটির নেতাদের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটির সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করে। ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি অংশ নিতে পারেনি। একই সময়ে আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগকেও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য নিয়ে উদ্বেগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ও গুজবের বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিধি যত বাড়ছে, অপতথ্য ও গুজবের মাত্রাও তত বাড়ছে। এ বিষয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় নতুন করে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। তিনি বলেন, “অপতথ্য ও মিথ্যা তথ্য প্রচার বন্ধে আমরা বিভিন্ন রকম প্রকল্প হাতে নিয়েছি।” অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও বিভিন্ন ধরনের রিলস নির্মাতাদের প্রশিক্ষণের জন্য ‘নিউমিডিয়া প্রজেক্ট’-এর আওতায় কাজ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, জনগণকে সঠিক তথ্য সম্পর্কে সচেতন করতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তথ্যচিত্র নির্মাণ এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর টুলস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব টুলের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে কোনটি সঠিক আর কোনটি অপতথ্য, তা জনগণকে জানানো হবে। বিটিভিতে ফরেনসিক অডিট বাংলাদেশ টেলিভিশনের অনুষ্ঠান ও সম্প্রচারের মান উন্নয়নে ‘ফরেনসিক অডিট’ শুরু করার কথাও জানিয়েছেন ইয়াসের খান চৌধুরী। অডিটের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিটিভির ডিজিটালাইজেশন, অনুষ্ঠান নির্মাণ ও সম্প্রচারের মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের বিষয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাংবাদিকেরা বিভিন্ন সময়ে সহযোগিতার জন্য আবেদন করলে ট্রাস্ট কার্যকরভাবে সহযোগিতা করার চেষ্টা করে। ট্রাস্টের জন্য বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়েও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র সংস্কারের উদ্যোগ এর আগে শনিবার কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র পরিদর্শন করেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী। পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণভাবে যুক্ত এই বেতারকেন্দ্রটি সংরক্ষণে সরকার পদক্ষেপ নেবে। কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারের ইতিহাস উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেন্দ্রটি বর্তমানে জলাবদ্ধতার সময় পানিতে ডুবে যায়। এটি কীভাবে আরও কার্যকরভাবে সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা যায়, সে বিষয়ে সরকার উদ্যোগ নেবে। এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করার কথাও জানান তিনি। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ এবং বেতারের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।