নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) কোষাধ্যক্ষ পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক - শিক্ষার্থীদের দাবি এ পদে নিয়োগের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন এবং আব্দুল মালেক উকিল হলের প্রভোস্ট ড. আব্দুল কাইয়ুম মাসুদ। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক দক্ষতা, দীর্ঘ একাডেমিক অভিজ্ঞতা এবং গবেষণায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে তাঁর নাম গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। নোবিপ্রবির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন এবং আব্দুল মালেক উকিল হলের প্রভোস্ট ড. আব্দুল কাইয়ুম মাসুদ৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক দক্ষতা, দীর্ঘ একাডেমিক অভিজ্ঞতা এবং গবেষণায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বিষয়গুলো বিবেচনায় ট্রেজারার পদে তাঁর নাম গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। বর্তমানে ড. মাসুদ নোবিপ্রবির ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন ও আব্দুল মালেক উকিল হলের প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি বিবি খাদিজা হলের প্রভোস্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল, ইন্টারনাল অডিট কমিটি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজনীতিতেও তিনি সক্রিয়। তিনি বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল-এর সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একাডেমিক জীবনে তাঁর রয়েছে ১৫ বছরেরও বেশি শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা। তিনি বর্তমানে গ্রেড-৩ প্রফেসর হিসেবে কর্মরত। এর আগে পাকিস্তানের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ), করাচিতে শিক্ষকতা করেছেন। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার ইনহা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাসটেইনেবিলিটি অ্যাকাউন্টিং বিষয়ে পিএইচডি এবং আইবিএ, করাচি থেকে পোস্টডক সম্পন্ন করেছেন। গবেষণায়ও রয়েছে তাঁর উল্লেখযোগ্য সাফল্য। গুগল স্কলারে তাঁর গবেষণাকর্মের সাইটেশন প্রায় ২ হাজার ৪০০, এইচ-ইনডেক্স ২২ এবং আই-টেন ইনডেক্স ২৭। এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকাউন্টিং, করপোরেট গভর্ন্যান্স, ইএসজি, করপোরেট ট্যাক্সেশন এবং সাসটেইনেবিলিটি বিষয়ে তাঁর গবেষণা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমাদৃত। শিক্ষা ও গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০২৫ ও ২০২৬ সালে টানা দুইবার ডিনস অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার ইনহা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্টস অ্যাওয়ার্ড ফর আউটস্ট্যান্ডিং রিসার্চ এবং আউটস্ট্যান্ডিং রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সম্মেলনে তিনি বেস্ট পেপার অ্যাওয়ার্ড ও বেস্ট ওরাল প্রেজেন্টেশন অ্যাওয়ার্ড-সহ দেশি-বিদেশি একাধিক সম্মাননা অর্জন করেছেন। বিশ্ববিদ্যাল টিএইচএম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জামশেদুল ইসলাম বলেন, গত কয়েকমাস ধরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার পদটি খালি পড়ে আছে। শোনা যাচ্ছে, এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একজন অধ্যাপককে এই পদের জন্য ভাবা হচ্ছে, যেটি প্রায় সব দিক দিয়েই নোবিপ্রবির চেয়ে পিছিয়ে। বিষয়টি সত্যিই হতাশাজনক। নোবিপ্রবিতে এমন অনেক শিক্ষক আছেন যারা এই পদের জন্য যথেষ্ট যোগ্য, তারপরও বাইরের কাউকে উক্ত পদের জন্য বেবিচনা করা সরকারের খুব ভালো সিদ্ধান্ত বলে মনে হয়না। সর্বশেষ দুইজন ট্রেজারারই নিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিয়োগ পেয়েছিলেন — এবারও সেই ধারা অনুযায়ী হওয়া উচিত। নিজেদের যোগ্য ও ত্যাগী শিক্ষকদের বাদ দিয়ে বাইরের কাউকে দায়িত্ব দিলে তা নোবিপ্রবির শিক্ষকদের জন্য অসম্মানের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। তিনি আরো বলেন, নোবিপ্রবির বেশ কয়েকজন শিক্ষক জুলাই আন্দোলনে সামনের সারিতে ছিলেন এবং সাদা দল, জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম উটাবের সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সরকারের উচ্চপর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় রাখা জরুরি। নোবিপ্রবির নিজস্ব যোগ্য ও দীর্ঘদিনের নিবেদিত শিক্ষকদের মধ্য থেকেই ট্রেজারার নিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। এইসডিএম বিভাগের অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন,আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স বিশ বছর। শিক্ষা ও গবেষণায় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সমসাময়িক অনেক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এগিয়ে। ইতিমধ্যেই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় টাইমস হায়ার এডুকেশন এবং কিউএস ব্যাংকিং এ ভাল অবস্হান তৈরি করছে। শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা প্রশাসনিক দক্ষতার ছাপ রেখে চলেছেন। যার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত অতীতের ট্রেজারার স্যার যারা এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই নিয়োগ পেয়েছিলেন। বর্তমানেও ট্রেজারার হওয়ার যোগ্য অনেক অধ্যাপক এ বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছেন। তাই অতীতের ন্যায় এবারও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ট্রেজারার নিয়াগ হউক এটা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের দাবি বলে আমি বিশ্বাস করি। ফলিত গনিত বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদুল হাসান জাহিদ বলেন, নোবিপ্রবির ট্রেজারার নিয়োগ নাকি পটুয়াখালী থেকে হবে! নোবিপ্রবি থেকে পবিপ্রবির(পটুয়াখালীর) র্যাংক যোজন যোজন দূরে। এই নিয়োগ ঢাবি থেকে হলেও মানা যেতো। ঠিক কিসের ভিত্তিতে পটুয়াখালী থেকে ট্রেজারার কন্সিডার করতেছেন? নোবিপ্রবিতে যে কয়েকজন শিক্ষক ট্রেজারারের ক্যান্ডিডেট ছিলো, ওনারা কোন দিক দিয়ে অযোগ্য ছিলো? ফ্যসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ভূমিকা, জুলাইতে ভূমিকাসহ; সবকিছু বিবেচনা করলে নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসের শিক্ষকদেরকে কোন ক্রাইটেরিয়াতে বাদ দিচ্ছেন? আপনি আমাকে একটা পয়েন্ট দেখান, যেখানে নোবিপ্রবি থেকে পটুয়াখালী শিক্ষকরা বেশি যোগ্য? বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং গবেষণায় আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার কারণে কোষাধ্যক্ষ পদের দায়িত্ব পালনে ড. মাসুদ একজন যোগ্যপ্রার্থী হতে পারেন। শু/আজা