প্রকাশ :: ... | ... | ...

পরাজিত শক্তি শ্রমিকদের উসকানি দিচ্ছে: রিজভী


সংযুক্ত ছবি

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘পরাজিত শক্তি দেশের বাইরে থেকে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। দেশের ভেতরেও কিছু রাজনৈতিক শক্তি নতুন সরকারকে অস্থিতিশীল ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত।’ তিনি বলেন, ‘সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দেশে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে নানা ধরনের উসকানি ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’ সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরের দিকে সিলেট নগরীর দরগাহ গেইট এলাকার হোটেল স্টার প্যাসিফিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। রুহুল কবির রিজভী বলেন, শ্রমিকদের মিথ্যা কথা বলে রাস্তায় নামিয়ে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। এ কাজে পরাজিত শক্তির ইন্ধন রয়েছে। তারা এখানে উসকানি দিচ্ছে। শ্রমিকদের নানাভাবে উসকানি দিয়ে নামানোর চেষ্টা করছে। তার উদাহরণ আছে, দৃষ্টান্ত আছে। গতকাল ঘটনাস্থল থেকে ১১ জন ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তাদের একজন নেতা ওই উসকানির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ভেতর থেকে তারা যে কাজ করছেন, নিজেরাই আবার সেটি ফেইসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকও তাদের কর্মকাণ্ড স্বীকার করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। অপ্রাসঙ্গিক আন্দোলন থেকে জবি শিক্ষার্থীদের বিরত থাকার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তিনি আরও বলেন, পরাজিত শক্তি দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য শ্রমিকদের মিথ্যা কথা বলে রাস্তায় নামানোর চেষ্টা করছে। ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের এই চেষ্টা এখন জনগণের কাছে স্পষ্ট হয়েছে। তবে কেউ চোরাপথে বা পেছনের দরজা দিয়ে দেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে তা মেনে নেওয়া হবে না। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখতে হবে। জামায়াতের আমিরের আরেকটি বিপ্লব দরজায় টোকা দিচ্ছে বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কোন বিপ্লব দরজায় টোকা দিচ্ছে? মাত্র ৮ মাস হলো একটি সরকারের বয়স। এই সরকার দেশের উন্নতি, আর্থিক, ব্যবসা সম্প্রসারণসহ নানা বিষয় নিয়ে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে গিয়ে বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক করছেন। সেখান থেকে বিনিয়োগ নিয়ে এসে দেশে বিনিয়োগের ব্যবস্থা করছেন। তিনি বলেন, বিএনপি প্রকাশ্যে গণতন্ত্রের জন্য ১৭ বছর লড়াই করেছে। অনেক রক্ত ঝরিয়ে, অনেক জীবন উৎসর্গ করে সেই লড়াই চালিয়েছে। অন্যদিকে গুপ্ত রাজনীতির মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না। এ ধরনের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত, তা জনগণ বুঝতে পারছে। তিনি বলেন, এ দেশের জনগণ অত্যন্ত গণতন্ত্রকামী। তারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমেই কোনো রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় বসাতে চায়। ১২ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এবং তার জোট ক্ষমতায় এসেছে। কেউ চোরাপথে বা পেছনের দরজা দিয়ে আসার চেষ্টা করলে তা জনগণ মেনে নেবে না। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় কঠিন সংকটের মুখে ছিল। এর মধ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। এতে দেশের কলকারখানা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহসহ বিভিন্ন খাতে সংকট তৈরি হয়। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিকল্প দেশ থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি, চাঁদাবাজি, মাস্তানি ও মানুষের জমি দখলের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি দেশে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার কাজ করছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এলাকার মধ্যে কে উপযুক্ত প্রার্থী, কার জনপ্রিয়তা ও জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, তা স্থানীয় নেতারা ঠিক করবেন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা আলোচনার মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই করবেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এ কার্যক্রম আরও জোরদার হবে। সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, সংসদ সদস্য এমএ মালিক, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকীসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।