পুরোনো ফ্যাসিবাদ আবার নতুন করে ফিরে আসছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম। তিনি বলেছেন, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি হবে না বলে প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু এখন আবারও সেই পুরোনো সংস্কৃতি দেখা যাচ্ছে। সোমবার ঢাকা কলেজে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। ডাকসুর ভিপি বলেন, আমরা আশা করেছিলাম, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী সেই রাজনীতি আর ফিরবে না। কিন্তু আমাদের কষ্ট দেয়, আজকে আমরা আবার দেখতে পাচ্ছি, সেই পুরোনো ফ্যাসিবাদ আবার নতুনভাবে চলে আসছে। তিনি আরো বলেন, ফ্যাসিবাদের কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল নেই। যে-ই ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠবে, তার বিরুদ্ধেই সোচ্চার হতে হবে। জুলাই বিপ্লব থেকে এ শিক্ষাই পাওয়া গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ছাত্ররাজনীতির পরিবর্তনের বিষয়ে সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে ছাত্ররাজনীতি হবে শিক্ষার্থীদের কল্যাণভিত্তিক, মেধা ও যোগ্যতাভিত্তিক এবং ছাত্র সংসদকেন্দ্রিক। এই লক্ষ্য সামনে রেখেই ডাকসুসহ পাঁচটি ছাত্র সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ক্যাম্পাসে দখলদারত্বের রাজনীতি ও গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতির তীব্র বিরোধিতা করে ডাকসুর ভিপি বলেন, এসব চর্চা আর ক্যাম্পাসে ফিরতে দেওয়া হবে না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সবসময় ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বয়স ৫৫ বছর হলেও গত কয়েক দশকে ক্ষমতায় থাকা অনেক নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্র ও সমাজের ক্ষতি করার অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তিনি চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, রাহাজানি, সন্ত্রাস এবং হাজার হাজার কোটি টাকা দেশ থেকে লোপাটের অভিযোগও তুলে ধরেন। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার প্রশংসা করে সাদিক কায়েম বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইতিহাস ওতপ্রোতভাবে জড়িত। জুলাই বিপ্লবে কলেজের সায়েন্স ল্যাব এলাকা আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা রেখেছিল। এই কলেজের শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজু ভাস্কর্য, শহীদ মিনার ও শাহবাগসহ বিভিন্ন স্থানে গিয়ে আন্দোলনকে বেগবান করতে ভূমিকা রেখেছেন। তিনি বলেন, দেশের মুক্তিকামী ছাত্র-জনতা ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবে। বর্তমান শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতের বাংলাদেশে নেতৃত্ব দেবেন। তাই তাঁদের মেধা, যোগ্যতা ও নৈতিকতার পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে হবে। শহীদ উসমান হাদি ও আবরার ফাহাদের আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, উসমান হাদি দেখিয়েছেন কীভাবে দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে অবস্থান নিতে হয়, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে হয় এবং ইনসাফের ওপর অটল থাকতে হয়। তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতিটি শিক্ষাবর্ষের জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি, সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, যোগাযোগের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিদেশি ভাষা শেখার পরামর্শ দেন। এ সময় ডাকসুর উদ্যোগে আয়োজিত একটি চাকরি মেলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেখানে ৩০টির বেশি চীনা কোম্পানি অংশ নিয়েছিল এবং চার শতাধিক শিক্ষার্থীকে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি দেওয়া হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব চাকরির বেতন ছিল ৬০ হাজার টাকা থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত। সাদিক কায়েম বলেন, গণভোটের জনরায় সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। পাশাপাশি ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কার্যকর বিচার না হওয়া, জ্বালানি খাতের সংকট এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দখলদারত্বের বিস্তার নিয়েও তিনি তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দখলদারত্বের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক, তার বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে। শিক্ষার্থীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পারলে বাংলাদেশে আর কখনো ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে না। ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোস্তাকিম আহমেদের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি সাইমুন ইসলাম সানির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিগবা। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক আনিছুর রহমান আনিছ, কেন্দ্রীয় সাবেক কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মারুফসহ শাখার অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।