প্রকাশ :: ... | ... | ...

পোশাককর্মী তৌফিকের মৃত্যুর দায় বিএনপি এড়াতে পারে না: বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী


সংযুক্ত ছবি

শ্রমিকের ন্যায্য মজুরির দাবির জবাবে হামলা, গ্রেফতার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেছে বলে মন্তব্য করেছে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী। সংগঠনটি বলেছে, শ্রমিক আন্দোলনে হামলার সময় ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া শ্রমিক তৌফিকের মৃত্যুর দায় ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার এড়াতে পারে না। বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেন সংগঠনটির নেতারা। সমাবেশ থেকে তৌফিক হত্যার বিচার, শ্রমিকদের জন্য ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা এবং আটক শ্রমিকদের নিঃশর্ত মুক্তিসহ ছয় দফা দাবি জানানো হয়। সমাবেশে নেতারা বলেন, ১২ হাজার টাকা মজুরিতে পরিবার চালানো একজন শ্রমিক নিজের ন্যায্য মজুরির দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিলেন। আন্দোলনে হামলার সময় তৌফিক সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতাকর্মীদের লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তারা বলেন, একজন শ্রমিককে ন্যায্য মজুরির দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে এবং সেই আন্দোলনে হামলার দৃশ্য ধারণ করতে গিয়ে প্রাণ দিতে হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের দায় ক্ষমতাসীন বিএনপি ও তার সরকার কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরির দাবির জবাবে লাঠিপেটা, হামলা, গ্রেফতার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার তার অবস্থান স্পষ্ট করেছে। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মী ও পুলিশ বাহিনীকে শ্রমিক আন্দোলন দমনে ব্যবহার করা রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের বহিঃপ্রকাশ। তাদের অভিযোগ, বিএনপি মালিকশ্রেণির স্বার্থরক্ষাকারী রাজনৈতিক শক্তি। শ্রমিকের শ্রমে উৎপাদিত সম্পদের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত না করে শ্রমিকদেরই দমন করা হচ্ছে। বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) শ্রমিকের মজুরি আন্দোলনকে বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে দমন করতে চেয়েছে। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারও আন্দোলনের মধ্যে আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র খুঁজেছে। এখন বিএনপি একই অজুহাতে শ্রমিক আন্দোলন দমন করছে। শাসক পরিবর্তন হলেও মালিকশ্রেণির স্বার্থে শ্রমিকের ওপর রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের ধারাবাহিকতা বদলায়নি। এ সময় সরকারের সঙ্গে আপস করে শ্রমিক আন্দোলন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টাকারী তথাকথিত শ্রমিকনেতাদের ভূমিকাও প্রত্যাখ্যান করেন সংগঠনটির নেতারা। তারা বলেন, শ্রমিকের দাবি উপেক্ষা করে সরকারের সঙ্গে বৈঠক, আন্দোলন দমনে সহযোগিতা এবং রাষ্ট্রীয় হামলার সময় ক্ষমতাসীনদের পাশে দাঁড়ানো শ্রমিকশ্রেণির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। শ্রমিকের নাম ব্যবহার করে যারা মালিকশ্রেণি ও সরকারের স্বার্থ রক্ষা করে, তারা শ্রমিকের প্রকৃত প্রতিনিধি নয়। সমাবেশ থেকে তৌফিক হত্যার বিচার, অবিলম্বে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা, শ্রমিক এলাকায় পুলিশি তল্লাশি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধ, তৌফিকের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং আটক শ্রমিকদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন ও মালিকশ্রেণির স্বার্থরক্ষাকারী তৎপরতার বিরুদ্ধে ছাত্র-শ্রমিকসহ সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানায় বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী।