প্রকাশ :: ... | ... | ...

বিএনপির সঙ্গে যুক্ত থাকায় অনেককে জুলাই যোদ্ধার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয় : প্রতিমন্ত্রী ইশরাক


সংযুক্ত ছবি

শুক্রবার সন্ধ্যায় বগুড়া শহরের টিটু মিলনায়তনে জুলাই-২৪ গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানে কথা বলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অনেক আহত জুলাই যোদ্ধাকে গেজেটভুক্ত করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি দাবি করেছেন, এর ফলে অনেকে রাষ্ট্রের প্রতিশ্রুত চিকিৎসাসুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে তাদের কেউ কেউ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় বগুড়া শহরের টিটু মিলনায়তনে জুলাই-২৪ গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ইশরাক হোসেন বলেন, ‘এটা অত্যন্ত দুঃখজনক, কিন্তু সত্য যে অনেক আহত জুলাই যোদ্ধাকে শুধু বিএনপি অথবা বিএনপির কোনো অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার কারণে গেজেটভুক্ত করা হয়নি। তাদের প্রাপ্য চিকিৎসাসুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে অনেকেই স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।’ সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হলে আহত ব্যক্তিদের শারীরিকভাবে আরও সক্ষম করে তোলা যেত উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে যারা আহত ব্যক্তিদের গেজেটভুক্ত করেননি, তাদের এমন পদক্ষেপ নিন্দনীয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির সম্পত্তি নয় মন্তব্য করে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আন্দোলনটি ছাত্রদের হাত ধরে শুরু হলেও পরে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন। রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ তখন রাজপথে নেমে এসেছিলেন।’ প্রতিমন্ত্রী জানান, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তরের মাধ্যমে আহত যোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের পুনর্বাসনে কাজ চলছে। এ ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হচ্ছে না। বাদ পড়া ব্যক্তিদের পুনরায় আবেদনের জন্য সীমিত সময়ের জন্য একটি সুযোগ দেওয়া হবে। ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ ও ‘জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’র পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল কিংবা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়েও এই আবেদন জমা দেওয়া যাবে। ইশরাক হোসেন আরও বলেন, আহত জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং তাদের দীর্ঘমেয়াদে স্বাবলম্বী করে তোলার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন। যারা স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাদের প্রয়োজন ও দক্ষতা অনুযায়ী পুনর্বাসনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে পরিকল্পনা কমিশনে একটি নতুন পরিকল্পনা পাঠানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এতে প্রয়োজন অনুযায়ী কৃত্রিম অঙ্গ সংযোজন ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার ব্যবস্থা থাকবে। এ লক্ষ্যে গঠিত ১৭টি মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটি কাজ করছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটির রাজশাহী বিভাগীয় সভাপতি উজ্জল হোসেন জোবায়েল। সভায় আরও বক্তব্য দেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান, বগুড়া জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম আহসানুল তৈয়ব জাকির, আরডিএর ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক, বগুড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র মাহবুবুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. ফারজানুল হক নির্ঝর, জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটির চেয়ারম্যান গোলাম রহমান, ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আমিনুল ইসলাম ইমন, সাধারণ সম্পাদক রবিউল আওয়াল তুহিন এবং বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধানসহ আরও অনেকেই।