প্রকাশ :: ... | ... | ...

বিদ্যুৎমন্ত্রীর বাড়িতে বিদ্যুৎ থাকে, সাধারণ মানুষের বাড়িতে থাকে না: শফিকুর রহমান


সংযুক্ত ছবি

ফেনীতে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের পথসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, বর্তমান সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। তিনি বলেন, সরকার ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে এবং এভাবে চলতে থাকলে জনগণ তা মেনে নেবে না। শনিবার বিকেল চারটার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী সদর উপজেলার মহিপাল এলাকায় ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের বিদ্যুৎ–সংকটের প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যুৎমন্ত্রীর বাড়িতে বিদ্যুৎ থাকে, সংসদে বিদ্যুৎ থাকে, কিন্তু সাধারণ মানুষের বাড়িতে বিদ্যুৎ থাকে না।’ একই সঙ্গে জুলাই গণহত্যা ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। শফিকুর রহমান বলেন, ‘এ সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা শুরু করেছে। আমরা ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি। এখন যাঁরা নতুন করে ফ্যাসিবাদ শুরু করবেন, তাঁদের ১৫ বছর আর অপেক্ষা করতে হবে না। আমরা কারও চোখ রাঙানি সহ্য করব না। আমরা যেখানে বাধা পাব, সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তুলব।’ তিনি আরও বলেন, ‘গত ছয় মাসে শাপলা চত্বরে গণহত্যা, পিলখানার হত্যার মতো বড় বড় গণহত্যার বিচার শুরু হয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় যেসব বিচার শুরু হয়েছিল, তার অনেকগুলো বন্ধ হয়ে গেছে।’ দেশের তরুণদের হাতে দেশ তুলে দেওয়ার প্রত্যয় জানিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমাদের কারও মামার বাড়ি বা পিসির বাড়ি নেই। আমরা এ দেশেই জন্ম নিয়েছি। এ দেশ আমাদের ঠিকানা। আমরা তরুণদের হাতে দেশ তুলে দিতে চাই।’ পথসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তাঁর অভিযোগ, র‍্যাব বিলুপ্ত না করে নতুন নামে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং জ্বালানি খাতে সিন্ডিকেটের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বিএনপি দুর্নীতি করলে দেশের মানুষ ছাড় দেবে না। ১১ দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন করা হলে বিএনপিকে আমরা ছাড় দেব না। আঘাত দিলে পাল্টা আঘাত আসবে।’ লংমার্চ শেষে ঢাকায় জনসভা করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি। লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, সরকার গণভোটের রায় মানছে না। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা জোর করে হলেও তাদের গণভোটের রায় মানাতে বাধ্য করব।’ সরকারের সমালোচনা করে অলি আহমদ আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মাস্তানি, জায়গা দখল, নেতা-কর্মীদের হয়রানি ও মাদকের অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘হাসিনা চলে গেলেও এ সরকার তাদের আদলে দেশ চালাচ্ছে।’ এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ ভালো নেই। দেশে গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই। বিএনপি চাঁদাবাজি শুরু করেছে।’ তাঁর অভিযোগ, সরকারের মন্ত্রীদের মধ্যে অনেকে অদক্ষ এবং বিএনপির ওপর মানুষের আস্থা কমে গেছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটের পক্ষে রায় দিলেও সরকার তা বাস্তবায়ন করছে না। তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে তাঁদের আন্দোলন আরও জোরালো হবে। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাবিতে তাঁরা যে আন্দোলন করছেন, তা অতীতের বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতা। তিনি বলেন, মহিপালের পথসভা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, লংমার্চের মধ্য দিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের আন্দোলন শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে কর্মসূচির পরিধি আরও বাড়ানো হবে। তবে এখনই ঢাকা ঘেরাওয়ের কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও জানান তিনি। এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, লংমার্চে জ্বালানি ব্যবহারের উৎস নিয়ে প্রশ্ন না তুলে সরকারকে জনগণের জন্য তেল ও জ্বালানির ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান। তাঁর ভাষায়, ‘তেল দিতে না পারলে ১১ দলীয় জোটের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে চলে যান।’ এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, সরকার জনগণের পকেট কাটা শুরু করেছে এবং গণভোটের রায় নিয়ে ‘নয়-ছয়’ করার চেষ্টা করছে। তিনি গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানান। এর আগে শনিবার সকালে ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা–চট্টগ্রাম লংমার্চ শুরু হয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, চৌদ্দগ্রাম ও ফেনীর মহিপালে পথসভা করে লংমার্চের গাড়িবহর চট্টগ্রামের দিকে এগিয়ে যায়। চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে জনসভার মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ১১ দলীয় ঐক্যের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও অপরাধ দমন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে দলীয়করণ বন্ধ করা। লংমার্চ ও পথসভাকে কেন্দ্র করে ফেনীর মহিপাল এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। চট্টগ্রামমুখী লেনের যানবাহনকে ঢাকামুখী লেন দিয়ে চলাচল করানো হলে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।