রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবার পদত্যাগ করতে পারেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে কয়েক দিন ধরে চলা গুঞ্জনের মধ্যেই বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে দুটি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও বিষয়টি জানিয়েছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা শুক্রবার আসতে পারে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে রয়টার্সের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোনকল বা বার্তার জবাব দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্রের কাছেও মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এদিকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই থাইল্যান্ডে ব্যক্তিগত সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বিষয়টি রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের গুঞ্জনকে আরও জোরালো করেছে। শুক্রবার দেশে ফিরছেন স্পিকার সংসদ সচিবালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, স্পিকারের দেশে ফেরার সময়সূচি এগিয়ে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, “স্পিকারের দেশে ফেরার সময় এগিয়ে আনা হয়েছে। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।” চিকিৎসা ও ব্যক্তিগত কারণে থাইল্যান্ড সফরে থাকা স্পিকার নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফিরছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে স্পিকারকে দ্রুত দেশে ফিরতে অনুরোধ করা হয়েছে। কেন স্পিকারের দেশে ফেরাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে? বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে পদটি শূন্য হয়ে যাবে। তখন নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির কার্যাবলি পালন করবেন। সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। অন্যদিকে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির কার্যাবলি পালন করবেন। অর্থাৎ, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের পর সাংবিধানিকভাবে স্পিকারের ওপর রাষ্ট্রপতির কার্যাবলি পালনের দায়িত্ব বর্তাবে। সে কারণে স্পিকারের দেশে ফেরার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যদিও সংবিধানে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সময় স্পিকারকে দেশে বা সশরীরে উপস্থিত থাকতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র পাঠিয়েও পদত্যাগ করতে পারেন। তবে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্পিকারকে রাষ্ট্রপতির কার্যাবলি পালন করতে হয়। এ কারণে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সম্ভাবনার মধ্যে স্পিকারকে দ্রুত দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।