জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মঙ্গলবার নতুন সরকারের মন্ত্রীরা শপথ নেন। বাম থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় ফিরে বিএনপি তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে সরকার সাজিয়েছে তাদের অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা, ব্যবসা, শিক্ষাসহ প্রায় সব খাতে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে বলে মন্ত্রীদের কেউ কেউ বলেছেন। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “সবকিছু নতুন করে করতে হবে।” মঙ্গলবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। এদিন বিকালে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ নেয়। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে এ সরকারের আকার দাঁড়িয়েছে ৫০ জনে। এর মধ্যে ২৫ জন মন্ত্রী, আর ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। প্রথমবার সরকার পরিচালনার দায়িত্বে এসে বেশির ভাগ নতুনদের নিয়ে পথ চলার পরিকল্পনা করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, যা দৃশ্যমান তার মন্ত্রিসভার তালিকাতে। তবে অভিজ্ঞদেরও সঙ্গী হিসেবে রেখেছেন তিনি। একাধিক মন্ত্রী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম বলেছেন, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে অর্থনীতির অবনতি ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবস্থাও বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে অনেকটাই প্রশ্নের মুখে। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের টানা দেড় দশকের শাসনের অবসান ঘটে। তিন দিন পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দেশের হাল ধরে। প্রায় দেড় বছর পর বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হয়। মির্জা ফখরুল বলেন, “নতুন সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জই চ্যালেঞ্জ। সবকিছু নতুন করে করতে হবে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার অর্থনীতির যে অবস্থা করেছে, সর্বশেষ অন্তবর্তী সরকার কিছুটা উন্নতি করলেও যে ঋণ, সেগুলো কীভাবে পরিশোধ হবে, এটি বড় চ্যালেঞ্জ। “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনও ভালো না। সেগুলো ঠিক করতে হবে। অনেক কাজ আছে।” তিনি বলেন, “ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে হবে। শিক্ষার দিকে মনোযোগ থাকতে হবে। সুন্দর পরিবেশ যেন থাকে, ব্যবসা যেন সুন্দর হয়।” বিএনপির মহাসচিব বলেন, “এই সরকারে জোনায়েদ সাকি, নুরুল হক নুর আছেন। সরকারকে যুগপৎ সরকারই বলতে হবে।” বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর মতে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে প্রচুর চ্যালেঞ্জ থাকবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, “এখনই মন্তব্য করার সময় আসেনি। এটা খুব ডিফিকাল্ট টাস্ক, যে আওয়ামী লীগ যেখানে আমাদের রেখে গেছে, সেই ভেঙে পড়া সিসটেমকে ঠিক করার জন্য আমি চেষ্টা করবো। “সামনে বিদ্যুতের চ্যালেঞ্জ আছে, এসবও দেখতে হবে।” এর আগে ২০০১-০৬ মেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনা করে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট। সে সময় বিএনপির মিত্র জামায়াতে ইসলামী সরকারে থাকলেও দুই দশক পরে এসে দলটি এবার বিরোধী দলের আসনে বসছে।