উত্তরপত্রের যথাযথ মূল্যায়ন বলছে শিক্ষা প্রশাসন; শিক্ষকরা দেখছেন শিক্ষাক্রম পরিবর্তন, কড়াকড়ি পরীক্ষা ও পড়াশোনার পরিবেশের প্রভাব প্রায় দেড় যুগের মধ্যে এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সবচেয়ে কম পাসের হার দেখা গেছে। ১৮ লাখের বেশি পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত বছর এই হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ২০ শতাংশ পয়েন্ট। কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও। ফল প্রকাশের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—হঠাৎ কেন এতটা কমল পাসের হার? এটি কি শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির দুর্বলতা, নাকি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে এবার বাড়তি কঠোরতা ছিল? শিক্ষাক্রমের পরিবর্তন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ, পরীক্ষাকেন্দ্রে নজরদারি বৃদ্ধি কিংবা ইংরেজি ও গণিতে তুলনামূলক বেশি অকৃতকার্য হওয়ার মতো বিষয়গুলো কি এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে? শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, এবারের ফল খারাপ নয়; বরং উত্তরপত্র যথাযথভাবে মূল্যায়নের কারণে ফলাফল শিক্ষার্থীদের প্রকৃত প্রস্তুতি ও দক্ষতার কাছাকাছি এসেছে। তবে শিক্ষক ও শিক্ষাবিদদের কেউ কেউ এর সঙ্গে আরও কয়েকটি কারণকে যুক্ত করছেন। ‘ফল স্বাভাবিক, উত্তরপত্র যথাযথভাবে মূল্যায়ন হয়েছে’ চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলকে ‘স্বাভাবিক’ হিসেবেই দেখছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। কমিটির সভাপতি ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, পাসের হার কম হওয়ায় অনেকে ফল খারাপ হয়েছে বলে মনে করছেন। কিন্তু বিষয়টি এমন নয়। তাঁর দাবি, এবার উত্তরপত্র যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনও ফলকে খারাপ বলতে নারাজ। ফল প্রকাশের পর তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যে নম্বর পেয়েছে, সেই অনুযায়ীই ফল দেওয়া হয়েছে। িপ্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিনের ভাষ্য, এবারের ফল তৈরি হয়েছে শিক্ষার্থীদের ‘প্রকৃত মেধা ও দক্ষতার শতভাগ নিরপেক্ষ মূল্যায়নের’ ভিত্তিতে। অর্থাৎ শিক্ষা প্রশাসনের বক্তব্যের মূল সুর—পাসের হার কমেছে মূলত মূল্যায়ন পদ্ধতিতে কৃত্রিম শিথিলতা না থাকার কারণে। ” বোর্ড ২০২৬ ২০২৫ ২০২৪ পাস (%) জিপিএ-৫ পাস (%) জিপিএ-৫ পাস (%) জিপিএ-৫ ঢাকা ৭১.৬৩ ৩৩২৫৩ ৬৭.৫১ ৩৭০৬৮ ৮৩.৯২ ৪৯,১৯০ রাজশাহী ৬৩.৬৭ ১৬১১৩ ৭৭.৬৩ ২২৩২৭ ৮৯.২৬ ২৮,০৭৪ কুমিল্লা ৬৫.৪২ ৯৮১৪ ৬৩.৬০ ৯৯০২ ৭৯.২৩ ১২,১০০ যশোর ৬৬.২৭ ১১৪৭৮ ৭৩.৬৯ ১৫৪১০ ৯২.৩৩ ২০,৭৬১ চট্টগ্রাম ৫৯.৪৮ ৯৩৯৮ ৭২.০৭ ১১৮৪৩ ৮২.৮০ ১০,৮২৩ বরিশাল ৬০.৩৫ ২৭৭৮ ৫৬.৩৮ ৩১১৪ ৮৯.১৩ ৬,১৪৫ সিলেট ৫৮.৩৩ ৩৮৩৬ ৬৮.৫৭ ৩৬১৪ ৭৩.৩৫ ৫,৪৭১ দিনাজপুর ৫৮.০৫ ১৩৬৩৯ ৬৭.০৩ ১৫০৬২ ৭৮.৪৩ ১৮,১০৫ ময়মনসিংহ ৫৭.৩৯ ৫৭০০ ৫৮.২২ ৬৬৭৮ ৮৫ ১৩,১৭৬ মাদ্রাসা ৫৫.৪৯ ৬৭১৬ ৬৮.০৯ ৯০৬৬ ৭৯.৬৬ ১৪,২০৬ কারিগরি ৫৮.২০ ৩৯৫১ ৭৩.৬৩ ৪৯৪৮ ৮১.৩৮ ৪,০৭৮ মোট ৬২.২৫ ১১৬৬৭৬ ৬৮.৪৫ ১৩৯০৩২ ৮৩.০৪ ১,৮২,১২৯ দেড় যুগের মধ্যে সর্বনিম্নগুলোর একটি এবার গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত বছর ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এর আগে ২০০৭ সালে পাসের হার নেমেছিল ৫৭ দশমিক ৩৭ শতাংশে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ পাসের হার দেখা গিয়েছিল ২০২১ সালে—৯৩ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে ওই সময়ের পরীক্ষার পরিস্থিতি ছিল স্বাভাবিক বছরের চেয়ে ভিন্ন। এবার পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। গত বছরের তুলনায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন। বোর্ডভেদেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার সবচেয়ে কম—৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। আর সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি—৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ। ইংরেজি ও গণিতে কেন বেশি ফেল? পাসের হার কমার অন্যতম কারণ হিসেবে ইংরেজি ও গণিতে তুলনামূলক কম পাসের হারকে সামনে আনছেন শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা। ঢাকা বোর্ডে ইংরেজিতে পাস করেছে ৭৮ দশমিক ৪ শতাংশ এবং গণিতে ৮২ দশমিক ৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থী। ময়মনসিংহ বোর্ডে ইংরেজিতে পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং গণিতে ৬৯ দশমিক ৬১ শতাংশ। সিলেট বোর্ডে ইংরেজিতে ৬৯ দশমিক ১১ শতাংশ এবং গণিতে ৭৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। বরিশাল বোর্ডে ইংরেজিতে পাসের হার ৬৯ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং গণিতে ৭৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের মতে, ইংরেজি ও গণিতে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় সামগ্রিক পাসের হার কমেছে। দাখিল পরীক্ষায় ইংরেজিতে পাসের হার ৭৯ দশমিক ২১ শতাংশ এবং গণিতে ৬৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ইংরেজিতে পাসের হার তুলনামূলক বেশি হলেও গণিতে তা ৭০ দশমিক ৯২ শতাংশ। শিক্ষাক্রম বদলের প্রভাব কতটা? এবারের পরীক্ষার্থীদের একটি বিশেষ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করতে হয়েছে। তারা নবম শ্রেণিতে পড়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রণয়ন করা নতুন শিক্ষাক্রমে। পরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সেই শিক্ষাক্রম বাতিল করা হয়। এরপর ২০১২ সালের শিক্ষাক্রম পরিমার্জন করে ২০২৫ সালে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নতুন বই দেওয়া হয়। ফলে একই ব্যাচের শিক্ষার্থীরা নবম ও দশম শ্রেণিতে ভিন্ন শিক্ষাক্রমের অভিজ্ঞতা পেয়েছে। রাজধানীর মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক শাহীনা কবীর মনে করেন, এই পরিবর্তনের প্রভাব ফলাফলে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীরা এক বছরে একটি ধরনের বই ও পদ্ধতিতে পড়েছে, পরের বছর আবার অন্য ধরনের বই ও কাঠামোর মধ্যে গেছে। তবে এ মতের সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন অন্য শিক্ষকরা। ইস্কাটন গার্ডেন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দুলাল চন্দ্র চৌধুরীর মতে, শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের কারণে ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে—এমনটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যানও শিক্ষাক্রম পরিবর্তনকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন না। জুলাই অভ্যুত্থানের পর বদলে যাওয়া শিক্ষা পরিবেশ আরেকটি বিষয় উঠে এসেছে শিক্ষকদের বক্তব্যে—শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক ও শ্রেণিকক্ষের স্বাভাবিক পরিবেশে পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করেন কয়েকজন শিক্ষক। দুলাল চন্দ্র চৌধুরীর মতে, ২০২৪ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরের নানা ঘটনার প্রভাব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশে পড়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক সম্পর্কেও তৈরি হয়েছে দূরত্ব। এর প্রভাব পড়াশোনার ধারাবাহিকতায় পড়তে পারে। একই ধরনের অভিমত দিয়েছেন ঢাকার একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকও। তাঁর মতে, শিক্ষকরা অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আগের মতো কঠোরভাবে আচরণ করতে পারছেন না। ফলে শ্রেণিকক্ষে শৃঙ্খলা ও নিয়মিত পড়াশোনার পরিবেশ ব্যাহত হয়েছে। তবে এটি শিক্ষার্থীদের ফল খারাপ হওয়ার প্রধান কারণ কি না, সে বিষয়ে কোনো পরিসংখ্যানভিত্তিক সিদ্ধান্ত এখনো পাওয়া যায়নি। পরীক্ষাকেন্দ্রে বাড়তি নজরদারিও কি কারণ? এবারের পরীক্ষায় পরীক্ষাকেন্দ্রে নজরদারি ছিল আগের তুলনায় বেশি। সব কেন্দ্রকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের শরীরেও ক্যামেরা ব্যবহারের ব্যবস্থা ছিল। শিক্ষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, পরীক্ষার পরিবেশে বাড়তি কড়াকড়িরও ফলাফলে কিছুটা প্রভাব থাকতে পারে। কারণ, আগের বছরগুলোতে পরীক্ষাকেন্দ্রে কিছু শিক্ষার্থী সীমিত পরিসরে হলেও অনিয়মের সুবিধা পেত। এবার নজরদারি বাড়ায় সেই সুযোগ কমেছে। দুলাল চন্দ্র চৌধুরীর মতে, কোনো শিক্ষার্থী যদি কয়েকটি বহুনির্বাচনী প্রশ্নের উত্তরও অন্যের কাছ থেকে দেখে লেখার সুযোগ না পেয়ে থাকে, সেটিও সামগ্রিক ফলাফলে কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে। তবে পরীক্ষার কড়াকড়িকে নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন না শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। বরং তাঁদের বক্তব্য, পাবলিক পরীক্ষায় নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করাই স্বাভাবিক নিয়ম। ‘অযাচিত নম্বর’ না দেওয়ার প্রভাব ফল প্রকাশের আগে শিক্ষামন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন, শিক্ষার্থীদের অযাচিত নম্বর দেওয়া হবে না। পরীক্ষা ও উত্তরপত্র মূল্যায়ন হবে যথাযথ নিয়মে। শিক্ষকদের একটি অংশ মনে করছেন, এই নির্দেশনারও প্রভাব পড়েছে এবারের ফলে। সিদ্ধেশ্বরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশেদা আক্তারের মতে, আগের বছর মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা থাকলেও এবার শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনার কারণে পরীক্ষকরা নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশি সতর্ক ছিলেন। এ কারণে সীমার কাছাকাছি থাকা অনেক শিক্ষার্থী এবার পাস করতে পারেনি—এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। নো ফেল স্কুল' ভিকারুননিসায় এবার ৫৫ জন ফেল! শিক্ষাবিদদের চোখে ‘বাস্তব ফল’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবারের ফলকে অনেকটাই ‘প্রকৃত রেজাল্ট’ বলে মনে করছেন। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ব্যবস্থায় নানা ধরনের দুর্বলতা তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ নিয়মিত পড়াশোনার অভ্যাস থেকে সরে গেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নানা অস্থিরতা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্কের দূরত্বও পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করেছে। তবে তিনি মনে করেন, শুধু পরীক্ষার ফল দিয়ে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার মান বিচার করা উচিত নয়। শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে অতিরিক্ত সহায়তা, শিক্ষকদের আরও যত্নশীল ভূমিকা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান পাবলিক ইউনিভার্সিটি সিস্টেমের শিক্ষক সাঈদ ইফতেখার আহমেদ মনে করেন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী—তিন পক্ষেরই গুণগত উন্নয়ন প্রয়োজন। তাঁর পর্যবেক্ষণ, ভালো ফল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় অংশ শহরকেন্দ্রিক। বিপরীতে প্রত্যন্ত এলাকার অনেক প্রতিষ্ঠান পিছিয়ে রয়েছে। ফলে শিক্ষার বৈষম্যও সামগ্রিক ফলাফলে প্রভাব ফেলছে। তাহলে এসএসসির ফলে ‘ধস’ নাকি বাস্তব চিত্র? এবারের ফলকে শুধু ‘ধস’ হিসেবে দেখলে বিষয়টির পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। পাসের হার কমেছে—এটি পরিসংখ্যানগতভাবে স্পষ্ট। একই সঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও। কিন্তু কেন কমেছে, তার উত্তর একক কোনো কারণে পাওয়া যাচ্ছে না। শিক্ষা প্রশাসনের ব্যাখ্যা—এবার উত্তরপত্র যথাযথভাবে মূল্যায়ন হয়েছে। বোর্ড কর্মকর্তারা ইংরেজি ও গণিতে তুলনামূলক কম পাসের হারকে অন্যতম কারণ বলছেন। শিক্ষকরা এর সঙ্গে শিক্ষাক্রম পরিবর্তন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ, পরীক্ষাকেন্দ্রে বাড়তি নজরদারি এবং ‘অযাচিত’ নম্বর না দেওয়ার প্রভাবের কথাও বলছেন। শিক্ষাবিদরা আবার শিক্ষা ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতা ও পড়াশোনার সংস্কৃতি থেকে সরে যাওয়ার বিষয়টি সামনে আনছেন। ফলে এবারের ফলাফলকে বোঝার জন্য শুধু পাসের হার নয়, **শিক্ষার্থীদের শেখার মান, মূল্যায়ন পদ্ধতি, শিক্ষাক্রমের ধারাবাহিকতা এবং বিদ্যালয়ের বাস্তব পরিবেশ—সবগুলো বিষয় একসঙ্গে দেখা প্রয়োজন।** কারণ, পাসের হার কমে যাওয়া যেমন একটি সতর্কবার্তা, তেমনি পরীক্ষায় বাস্তব মূল্যায়ন ফিরে আসাও শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এখন মূল প্রশ্ন হলো—এই ফলকে সরকার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে বিশ্লেষণ করে এবং আগামী ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জন্য কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়।