প্রকাশ :: ... | ... | ...

অফিসে অনুপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, আগেই দেওয়া হাজিরা


সংযুক্ত ছবি

নারায়ণগঞ্জের কয়েকটি ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে কর্মস্থলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি এবং অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও আগাম হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর এলাকায় তিনটি ভূমি সার্কেল অফিস পরিদর্শনে যান প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি দেখতে পান, নির্ধারিত সময়ে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মস্থলে উপস্থিত হননি। তবে তাঁদের অনেকের নামের পাশে হাজিরা খাতায় আগেই স্বাক্ষর করা রয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক কর্মচারী উপস্থিত না থেকেও হাজিরা খাতায় সই করে রেখেছেন। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ আকস্মিক পরিদর্শনের সময় অনিয়মের বিভিন্ন তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণই দেশের প্রকৃত মালিক। তাঁদের সেবা দেওয়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইনি দায়িত্ব। এটি কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়। তাই সরকারি কর্মচারীদের নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত হয়ে আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নাগরিকদের সেবা নিশ্চিত করতে হবে। পরিদর্শনকালে ভূমি অফিসগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতাও প্রতিমন্ত্রীর নজরে আসে। একই সঙ্গে তিনি দেখতে পান, কয়েকজন নারী কর্মকর্তা-কর্মচারী একই সঙ্গে প্রশাসনিক ও বিচারিক দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি অফিসে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তবে শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। সরকারি সেবার মান বাড়াতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ববোধ ও মানসিকতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। তিনি বলেন, সরকারি দপ্তরে নাগরিকদের হয়রানি বা সেবা পেতে বিলম্বের সুযোগ থাকা উচিত নয়। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময়ানুবর্তিতা, সততা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। নারায়ণগঞ্জের ভূমি অফিসগুলোতে আকস্মিক পরিদর্শনের ঘটনাটি সরকারি দপ্তরে উপস্থিতি, জবাবদিহি ও নাগরিকসেবার মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। প্রতিমন্ত্রীর ঘোষিত প্রশাসনিক ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।