প্রকাশ :: ... | ... | ...

আগামী ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপন করব: প্রধানমন্ত্রী


সংযুক্ত ছবি

বিভ্রান্তিকর কথা বলে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের আগামী ১০ বছরের পরিকল্পনা অচিরেই জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে জনগণের স্বার্থে ঢেলে সাজাতে সরকার কাজ শুরু করেছে। নতুন পরিকল্পনার লক্ষ্য হবে দেশের স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা, বাসাবাড়ি থেকে শুরু করে যানবাহনে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা। রোববার চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়ায় পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে এক সমাবেশে চলমান জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের জ্বালানি বা বিদ্যুৎ ব্যবস্থা যেটি অপরিকল্পিতভাবে কোটি কয়েক মানুষকে সুবিধা দিয়েছিল, সেটি যদি জনগণের স্বার্থে পরিকল্পনা করতে হয়; স্বাভাবিকভাবে কিছু সময়ের প্রয়োজন। আমরা এরই মধ্যে এই কাজে হাত দিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের সামনে আগামী ১০ বছরে আমাদের জ্বালানি পরিকল্পনা কী হবে, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কী হবে, সেই প্রস্তাবনা আমরা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করব। আমরা পরিকল্পনা দিয়ে সেই কাজ শুরু করব; যাতে স্কুল-কলেজ হোক, হাসপাতাল হোক, মিল-কারখানা হোক, বাসাবাড়ি হোক—মানুষ ঠিকভাবে যেন বিদ্যুৎ পেতে পারে। গাড়ি, মোটরসাইকেল—সবকিছুতে যাতে মানুষ গ্যাস ঠিকভাবে পেতে পারে, সেই পরিকল্পনা আমরা গ্রহণ করব।’ জ্বালানি সংকট নিয়ে বিভ্রান্তি নয় চলমান জ্বালানি সংকটকে কেন্দ্র করে কিছু মানুষ বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা খেয়াল করেছি, কিছুদিন ধরে কিছু মানুষ এই ব্যাপারে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। আপনাদের পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, বিএনপি সরকার সংসদে পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে। আপনাদের যদি পরিকল্পনা থাকে, আসুন জনগণের সামনে উপস্থাপন করুন। কিন্তু বিভ্রান্তিকর কথা বলে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করবেন না, জনগণের শান্তি নষ্ট করবেন না।’ দেশের স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পার হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন জনগণের জন্য কাজ করার এবং দেশ গঠনের সময়। বিশ্বের অনেক দেশ বাংলাদেশের পরে স্বাধীন হয়েও পরিশ্রম ও কাজের মাধ্যমে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশকে আর পিছিয়ে থাকা যাবে না। প্রধানমন্ত্রীর ভাষায়, ‘এখন একটি লক্ষ্য, একটি উদ্দেশ্য—জনগণের জীবনমান উন্নত করা। দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করা।’ ‘২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মশক্তিতে রূপান্তর করতে চাই’ সরকার দেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মশক্তিতে রূপান্তর করতে চায় বলে জানান তারেক রহমান। প্রত্যেক নাগরিক যাতে নিজের শ্রমের মাধ্যমে নিজের ও পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারেন, সেই বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমরা সেই বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই, আমরা সেই বাংলাদেশের জন্য অপেক্ষা করেছি। কিন্তু এটার জন্য অপেক্ষা করে বসে থাকলে চলবে না। কাজ করতে হবে।’ কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি শিল্পকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিল্পের বিপ্লব ঘটানোর ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে, মিল-কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান এবং শিল্পের বিপ্লব আমাদেরকে ঘটাতে হবে।’ দেশকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না, বরং সামনে এগিয়ে যাবে এবং নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করবে। শান্তি-শৃঙ্খলা না থাকলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান হবে না দেশের আইনশৃঙ্খলা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো এলাকায় গোলযোগ বা অস্থিরতা তৈরি হলে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন ছোট ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ। তারেক রহমান বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কোনো কারখানায় বিনিয়োগ করলে তারা চান, উৎপাদিত পণ্য নির্বিঘ্নে বন্দরে নেওয়া যাবে এবং প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সময়মতো আনা যাবে। রাস্তাঘাটে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ না থাকলে শিল্পকারখানা সঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তার ভাষায়, ‘যদি মিল-কারখানা না চলে সঠিকভাবে, তাহলে কি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব? হবে না।’ শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায় এমন ব্যক্তিদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও সচেতন থাকার কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিভ্রান্তকারীরা যদি বিভ্রান্ত করার সুযোগ পায়, ক্ষতিগ্রস্ত হবে জনগণ।’ দেশের উন্নয়ন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে জনগণকে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব? নাকি আমরা ঝগড়া-ফ্যাসাদে লিপ্ত থাকব? নাকি আমরা বিভ্রান্তকারীদের সঙ্গে থাকব। এই ব্যাপারে আমাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ ‘জ্বালানি খাত কয়েকজনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল’ বিগত সরকারের সময় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে কয়েকজন ব্যক্তির স্বার্থে পরিচালনা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা জানি বিগত স্বৈরাচার আমলে এই দেশের জ্বালানি বা বিদ্যুৎ খাতকে কয়েকটি গুটি সংখ্যক ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল, যা এই দেশের মানুষের পক্ষে নয়।’ বর্তমান সরকার জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের পরিকল্পনা করছে বলে জানান তিনি। এর অংশ হিসেবেই আগামী ১০ বছরের পরিকল্পনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। ‘ক্ষমতার উৎস জনগণ’ বিএনপি সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জনগণের সমর্থন চেয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপির সব ক্ষমতার উৎস জনগণ। তিনি বলেন, ‘জনগণের সমর্থন থাকলে আমরা প্রত্যেকটি জনগণের স্বার্থে যত কর্মসূচি নিয়েছি, সবগুলো আল্লাহর রহমতে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব।’ বাঁশখালীর স্থানীয় দাবিতে ইতিবাচক সাড়া সমাবেশে বাঁশখালীর স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যার কথাও উঠে আসে। বাঁশখালী বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং লবণের মূল্য নির্ধারণসহ স্থানীয়দের বিভিন্ন দাবির প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে রোববার সকালে কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শন করেন তারেক রহমান। পরে হেলিকপ্টারে করে বাঁশখালীর বাহারছড়ায় যান তিনি। বাহারছড়ায় পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে আয়োজিত সমাবেশে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে ত্রাণসামগ্রী ও নতুন টিনের ঘরের চাবি তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। সমাবেশে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।