নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিনের পর আদালত চত্বরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে তাঁর আইনজীবী অ্যাডভোকেট জিয়াউল ইসলাম কাজলসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন কাজলের ভাই আতিকুল ইসলাম মুন্না ও অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান তুষার। পুলিশ জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণ করে তাঁদের শনাক্ত করা হয়। পরে ফতুল্লা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে ওই মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাঁদের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছেন। নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সমর্থিত নেতাকর্মীরা আদালত চত্বরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ভিডিও ও ছবি দেখে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার রিকশাচালক তুহিন হত্যা মামলায় জামিন পান সেলিনা হায়াৎ আইভী। জামিনের পর আদালত চত্বরে তাঁর উপস্থিতিতে সমর্থকদের ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে দেখা যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। আদালত থেকে বেরিয়ে গাড়িতে ওঠার আগে আইভী বলেন, ‘জয় বাংলাকে থামিয়ে রাখা যাবে না।’ এরপরই আইভীর আইনজীবী জিয়াউল ইসলাম কাজলসহ তিনজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনা সামনে আসে। তবে স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় তাঁদের প্রত্যেকের নির্দিষ্ট ভূমিকা কী ছিল, তা পুলিশের বক্তব্য ও মামলার নথির ভিত্তিতে পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। জিয়াউল ইসলাম কাজলের এক নিকটাত্মীয়ের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কাজলকে কোনো স্লোগান দিতে দেখা যায়নি। তাঁর ভাষ্য, কাজলকে মামলার নথিপত্রের ফাইল হাতে নিয়ে আইভীর পাশে হাঁটতে দেখা গেছে। তিনি আদালতে আইভীর আইনজীবী হিসেবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন। ওই আত্মীয় আরও দাবি করেন, কাজল আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। ফতুল্লা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রেহানুল জানান, সন্ত্রাস দমন আইনের মামলায় অ্যাডভোকেট জিয়াউল ইসলাম কাজলসহ তিনজনের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। আদালত এ বিষয়ে কী আদেশ দিয়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাটি ঘিরে মূল প্রশ্ন হলো, আদালত চত্বরে স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার প্রত্যেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কী সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে এবং ভিডিও-ছবিতে তাঁদের ভূমিকা কীভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা ও প্রত্যেকের দায় নির্ধারণের বিষয়টি তদন্ত এবং আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।