শিল্পাঞ্চল সাভার ও আশুলিয়ার পোশাক কারখানাগুলোতে আজ মঙ্গলবার একযোগে ছুটি হয়েছে। ফলে দুপুরের পর থেকেই সাভারের মহাসড়কগুলোর বিভিন্ন পয়েন্টে ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। তবে যাত্রীদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত গণপরিবহন থাকলেও ভাড়া তিন থেকে চার গুণ বেশি নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে বৃষ্টির কারণে যাত্রীদের ভোগান্তিও আরও বেড়ে গেছে। আজ দুপুরে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বাইপাইল স্ট্যান্ডে তিন থেকে চার গুণ বেশি ভাড়া নিয়ে যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে দরকষাকষি করতে দেখা যায়। স্বামী-সন্তান নিয়ে নাটোরের দত্তপাড়া যাওয়ার জন্য বাইপাইল ব্রিজের কাছে অপেক্ষারত পোশাকশ্রমিক রেজিয়া বেগম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বাবা মারা যাওয়ায় এক সপ্তাহ আগে বাড়িতে গিয়েছিলাম। তখন ভাড়া দিয়েছিলাম ২০০ টাকা। এখন বাড়ি ফিরতে ১ হাজার ২০০ টাকা চাচ্ছে। ঈদ উপলক্ষে ভাড়া কিছুটা বাড়লে সমস্যা নেই, কিন্তু এত বেশি ভাড়া নেওয়া অন্যায়। ৩ ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছি, কিন্তু সবাই একই ভাড়া চাচ্ছে।’ আরেক পোশাকশ্রমিক শরিফুল ইসলাম ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘রংপুরে যেতে গাড়িভেদে প্রকৃত ভাড়া ৪০০-৫০০ টাকা। এখন ভাড়া চাচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা। ঈদ এলেই ভাড়া তিন থেকে চার গুণ বেশি হয়ে যায়। কী করবো? বাড়িতে তো যেতেই হবে।’ নাটরগামী আরাফাত পরিবহন থেকে যাত্রীদের ডাকছিলেন কন্ট্রাক্টর মো. আনিস। এ সময় তিনি যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করেন। বেশি ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আনিস বলেন, ‘নাটোরে সাধারণ ভাড়া সাড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা হলেও এখন ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। ঈদের সময় গাড়ি যাত্রীবোঝাই করে গেলেও ফিরতে হয় খালি অবস্থায়। এ কারণেই ভাড়া বেশি নেওয়া হচ্ছে।’ রংপুরগামী একটি পরিবহনের কন্ট্রাক্টর লিটন মিয়া ভাড়া ১ হাজার ২০০ টাকা বলে যাত্রীদের ডাকছিলেন। বেশি ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সাধারণ সময়ে রংপুরের ভাড়া ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা হলেও এখন ১ হাজার ২০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। খালি গাড়ি নিয়ে ফিরতে হয় বলেই ভাড়া বেশি রাখা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমাদের তিনটি মোবাইল টিম সড়কে কাজ করছে। অতিরিক্ত ভাড়া দাবি ও আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে জরিমানা করা হচ্ছে।’ নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট এদিকে দুপুরের পর নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। নবীনগর থেকে গাজীপুরের চন্দ্রা পর্যন্ত মহাসড়কের কোথাও কোথাও দীর্ঘ যানজট, আবার কোথাও কোথাও ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। সড়কটির নবীনগর থেকে বাইপাইল, ডিইপিজেড থেকে শ্রীপুর ও কবিরপুর থেকে গাজীপুরের চন্দ্রা পর্যন্ত বিভিন্ন অংশে যানজট দেখা যায়। বাইপাইল ব্রিজ এলাকায় যানজটে আটকে থাকা পাবনাগামী যাত্রী তানজিলা আক্তার ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘গাবতলী থেকে সাভার ক্যান্টনমেন্ট পর্যন্ত ভালোভাবেই এসেছি। তবে ক্যান্টনমেন্ট থেকে বাইপাইল পর্যন্ত আসতে প্রায় ২ ঘণ্টা লেগেছে। এখন গাড়ি আর চলছেই না।’ এ বিষয়ে সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান মিয়া ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘দুপুরের পর থেকে সড়কে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে। এ কারণে কোথাও কোথাও থেমে থেমে, আবার কোথাও ধীরগতিতে যান চলাচল করছে।’ নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সড়কটিতে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ তুলনামূলক বেশি থাকায় বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে যান চলাচল করছে। সড়কের স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখতে পুলিশ কাজ করছে। বৃষ্টির কারণে যাত্রীরা বের হতে পারেননি, পরে বৃষ্টি থামার পর একসঙ্গে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়ে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’