কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে শান্তিপূর্ণভাবে নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার দাবিতে পৃথক কয়েকটি বড় সমাবেশ করেছেন রোহিঙ্গারা। সমাবেশে বক্তারা বলেন, ক্যাম্পের মানবেতর জীবন থেকে মুক্তি পেতে তারা আর কালক্ষেপণ চান না। দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্মানজনক ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনই তাদের একমাত্র দাবি। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে উখিয়ার ক্যাম্প-৪ এক্সটেনশনের ফুটবল মাঠে নাগরিক সংগঠন ‘ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা’ (ইউসিআর)-এর আয়োজনে এই সমাবেশে অংশ নেন উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পের লাখো রোহিঙ্গা। এছাড়া টেকনাফের শালবাগান এবং উখিয়ার অন্যান্য ক্যাম্পেও পৃথক সমাবেশ ও কর্মসূচি পালিত হয়। সমাবেশে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংঘটিত গণহত্যায় নিহতদের স্মরণ, রোহিঙ্গাদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহির দাবি এবং নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জোরালো আহ্বান জানানো হয়। উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আয়োজিত এসব সমাবেশে হাজার হাজার সাধারণ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ অংশ নেন। এ সময় তাদের হাতে বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। সমাবেশের মূল প্রতিপাদ্য স্লোগান ছিল—‘শেষ কথা একটা, ফেরত যাবো আরাকান’ (স্থানীয় ভাষায়: ‘শেষ হতা এক্কান, ফিরত চাই আরাকান’) এবং ‘নাইন ইয়ারস গন, থিংক টেন মিনিটস ফর রোহিঙ্গা’। রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী মোহাম্মদ রফিক বলেন, আমরা বিশ্বের কাছে দশ মিনিট চাই, ৯টা বছর পার করেছি। এদেশ আমাদের নয় আমরা আমাদের দেশে ফিরতে চাই। এ নিয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আরকান আমাদের, আমরা আরকানের- এর চেয়ে আর বড় কোনো সত্য নেই এবং সেটি মানবিক বিশ্বকে গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। রোহিঙ্গা নেতা রমিজ উদ্দিন বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নাগরিক অধিকার, নিরাপত্তা ও ভিটেমাটি ফিরিয়ে দিয়ে দ্রুত ভূমিতে ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটের স্থায়ী সমাধানে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহকে আরও জোরালো ভূমিকা পালন করুক। দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পে মানবেতর জীবনযাপন, আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি চাই। রোহিঙ্গা নেতারা বলেন, আমরা ভিনদেশে দীর্ঘদিন থাকতে চাই না। আমাদের নিজস্ব মাতৃভূমি আরাকানেই আমাদের শেকড়। আন্তর্জাতিক মহলের কাছে আমাদের আকুতি, আমাদের দ্রুত নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করুন। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিপীড়নের মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর প্রত্যাবাসন শুরু না হওয়ায় ক্যাম্পের সাধারণ রোহিঙ্গাদের মধ্যে হতাশা দিন দিন বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে আজকের এই সমাবেশ তাদের দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ ও আকৃতিরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শু/আজা