নাটোরের বড়াইগ্রামে একসঙ্গে জন্ম নেওয়া তিন বোন একসঙ্গে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি অর্জন করেছে। তাদের এই ব্যতিক্রমী সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে। বৃত্তিপ্রাপ্ত তিন বোন হলেন তনোয়া ফাতেমা, তাসমিয়া মরিয়ম ও আয়েশা সিদ্দিকা। তারা বড়াইগ্রাম উপজেলার জোনাইল বাজারপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং জোনাইল এম এল উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রেজাউল করিম সরকার ও গৃহিণী শিল্পী খাতুন দম্পতির সন্তান। বর্তমানে তিনজনই জোনাইল এম এল উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। জানা গেছে, তারা জোনাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ করে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রেখেছে। মেয়েদের এমন সাফল্যে উচ্ছ্বসিত বাবা রেজাউল করিম সরকার বলেন, “ওদের জন্ম যেমন একসঙ্গে, বেড়ে ওঠাও তেমনি একসঙ্গে। ছোটবেলা থেকেই তিনজনের পড়াশোনার প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল। আমি ও তাদের মা সবসময় পাশে থেকেছি। ওরা নিজেরাও খুব পরিশ্রমী এবং একে অপরকে পড়াশোনায় সহযোগিতা করে। আল্লাহর রহমত, শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা ও ওদের কঠোর পরিশ্রমের ফলেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে।” জোনাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাসলিমা খাতুন কেয়া বলেন, “তিন বোনই ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী, ভদ্র ও শৃঙ্খলাপরায়ণ। তাদের এই সাফল্যে আমরা গর্বিত। ভবিষ্যতেও তারা আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে বলে আশা করছি।” বর্তমানে তারা যে বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছে, সেই জোনাইল এম এল উচ্চবিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মাহতাব উদ্দিন বলেন, “তারা এখন আমাদের বিদ্যালয়ের ছাত্রী। আমরা বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতেও তারা বিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধি করবে এবং সাফল্যের ধারা বজায় রাখবে।” বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস তিন বোনকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “একসঙ্গে জন্ম নেওয়া তিন বোনের একসঙ্গে বৃত্তি অর্জন সত্যিই বিরল ও আনন্দের ঘটনা। তাদের এই অর্জন অন্য শিক্ষার্থীদেরও অনুপ্রাণিত করবে। আমি তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি।” শু/আজা