কক্সবাজারে সাম্প্রতিক বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) **হেলপ কক্সবাজার**। একই সঙ্গে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) কক্সবাজার পৌরসভার ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের নুনিয়ারছড়া, পানিকুপপাড়া শিল্প এলাকা এবং ঝিলংজা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দরিয়ানগর বড়ছড়া এলাকায় বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সরেজমিনে পরিদর্শন করেন হেলপ কক্সবাজারের প্রতিনিধিরা। সংস্থাটি জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে দরিয়ানগর বড়ছড়া এলাকায় পাহাড়ধসে নাছিমা আক্তার (২৭) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়। তিনি মোহাম্মদ জসিমের স্ত্রী এবং দুই সন্তানের জননী। এ ঘটনায় তার স্বামী আহত হয়েছেন। পরিদর্শনকারী প্রতিনিধি দলে ছিলেন হেলপ কক্সবাজারের কো-অর্ডিনেটর আব্দু রহিম বাবু এবং সংস্থার কর্মী এম. জসীম উদ্দিন, সাজেদুজ্জামান চৌধুরী, শারমিন আক্তার মিনা, শাকের উল্লাহ ও সোমাইয়া আজিম রাইচা। প্রতিনিধি দল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের বর্তমান পরিস্থিতি, জরুরি চাহিদা ও দুর্যোগে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করেন। এ সময় বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রয়োজন নিরূপণে হাউস ভিজিটও পরিচালনা করা হয়। হেলপ কক্সবাজারের নির্বাহী পরিচালক আবুল কাশেম বলেন, “দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সবার মানবিক দায়িত্ব। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, কমিউনিটি প্রতিনিধি এবং বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “হেলপ কক্সবাজার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রয়োজন চিহ্নিত করে সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা, জরুরি সহায়তা ও পুনর্বাসনের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।” স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। হেলপ কক্সবাজার দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।