প্রকাশ :: ... | ... | ...

কক্সবাজার শহরে ময়লার পাহাড়: অতিষ্ঠ এলাকাবাসী


সংযুক্ত ছবি

​বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত ও দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজার আজ এক চরম পরিবেশগত সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। পর্যটন শহরের ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য ম্লান করে দিয়ে খোদ কক্সবাজার পৌরসভার দায়িত্বহীনতা ও অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে এবং নদী তীরে গড়ে উঠেছে ময়লার বিশালাকার স্তূপ বা ‘ময়লার পাহাড়’। সরেজমিনে কস্তুরাঘাট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শহরের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে প্রতিদিন শত শত টন গৃহস্থালী ও বাণিজ্যিক বর্জ্য এনে ফেলা হচ্ছে কস্তুরাঘাট এলাকায়। বছরের পর বছর এভাবে ময়লা ফেলার ফলে সেখানে এখন ময়লার একটি বিশাল পাহাড় তৈরি হয়েছে। বাতাসের সাথে ভেসে আসা পচা ময়লার দুর্গন্ধে ওই এলাকার বাতাসে নিঃশ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে কস্তুরাঘাট, বদর মোকাম ও এন্ডারসন রোডের বাসিন্দাদের পাশাপাশি খুরুশখুল নতুন ব্রিজ দেখতে আসা পর্যটক ও কুরুশখুলের স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া বর্ষাকালে এসব ময়লার বর্জ্যমিশ্রিত পানি গড়িয়ে গিয়ে আশপাশের নালা ও বাকঁখালী নদীতে মিশে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, কক্সবাজার পৌরসভা শহরের বিভিন্ন বাসা-বাড়ি, হোটেল-মোটেল ও হাসপাতালের বর্জ্য শহরের কস্তুরাঘাটের বাঁকখালী নদীর তীরবর্তী এলাকায় ফেলে আসছে। দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে এভাবে বর্জ্য ফেলতে ফেলতে নদীর তীরে প্রায় ৫০ ফুট উঁচু বর্জ্যের বিশাল পাহাড় তৈরি হয়েছে। ​স্থানীয় বাসিন্দা কবি ও শিক্ষকা হাসিনা চৌধুরী লিলি বলেন, সারাদিন তো দূরে থাক, রাতের বেলাও জানালা খোলা যায় না। দুর্গন্ধে আমাদের জীবনযাত্রা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তিনি আরো বলেন, এখানে মানুষের বসবাস, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিদিন যেভাবে ময়লার গন্ধ ছড়ায়, তাতে যেকোনো সময় বড় ধরনের মহামারী বা স্বাস্থ্যগত বিপর্যয় ঘটতে পারে। আমরা বহুবার বলার পরও কোনো স্থায়ী সমাধান পাচ্ছি না। এর ফলে একদিকে যেমন মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে, অন্যদিকে তীব্র দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের জনজীবন। আমরা কক্সবাজারবাসি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দীন বলেন, সাবেক মেয়র মুজিব রহমা রাবারডেম এলাকায় ডাম্পিং স্টেশন করার নামে বিশাল অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে তৎকালীন সময়ে ডাম্পিং স্টেশনের নামে নেওয়া নানা মেয়াদী প্রকল্প শুধু ফাইলবন্দি কাগজপত্রের মারপ্যাচে বন্দী করে রাখে বাস্তবে স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন আলোর মুখ দেখেনি। অপরিকল্পিত প্রকল্প গ্রহণ এবং টালবাহানার কারণে শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নির্ধারিত স্থান আজও তৈরি হয়নি। অনতিবিলম্বে এই ময়লার পাহাড় শহর থেকে অন্যত্র সরিয়ে না নিলে আমরা কক্সবাজারবাসি সংগঠন, কক্সবাজারের সকল মানুষকে সাথে নিয়ে কক্সবাজার পৌরসভা ঘেরাও করতে বাধ্য হবো। এ বিষয়ে কক্সবাজার পৌরসভার দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বললে তারা জানান, শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে স্থায়ী ও পরিবেশবান্ধব করার জন্য দীর্ঘদিন ধরে আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। কস্তুরাঘাটের এই সাময়িক সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য দ্রুত গতিতে নির্ধারিত ডাম্পিং স্টেশনের নির্মাণকাজ এগিয়ে চলেছে। প্রকল্পটির কাজ পুরোপুরি শেষ হলে শহরের সব বর্জ্য বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সেখানে ডাম্প করা সম্ভব হবে। তখন কস্তুরাঘাট এলাকার ময়লার স্তূপ সরিয়ে ফেলে পরিবেশ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে। শু/আজা