কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আলোচিত ‘পীর’ শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীরের মরদেহ কবর থেকে তুলে দরবার প্রাঙ্গণে পুনরায় দাফনের অভিযোগ উঠেছে তাঁর ভক্তদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় মরদেহটি কবর থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনেরা। শনিবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হয়। নিহত শামীম রেজার বড় ভাই ফজলুর রহমান বলেন, সকালে খবর পেয়ে তাঁরা স্থানীয় কবরস্থানে গিয়ে দেখেন, শামীমের কবর খোঁড়া। মরদেহ তুলে নেওয়ার আলামতও সেখানে পাওয়া যায়। পরে দরবার প্রাঙ্গণে গিয়ে একটি নতুন কবর দেখতে পান তাঁরা। ওই কবরটি খাপাচি দিয়ে ঢেকে মাটি চাপা দেওয়া ছিল। তবে নতুন কবরের ভেতরে পাওয়া বস্তুটি শামীম রেজার মরদেহ কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার আলামত পেয়েছে। দরবার প্রাঙ্গণে খোঁড়া নতুন কবরের ভেতরে কঙ্কালসদৃশ বস্তু দেখা গেছে। তবে সেটি শামীম রেজার মরদেহের অংশ কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। ওসি আরও বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তাঁদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে চলতি বছরের ১১ এপ্রিল ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে শামীম রেজার দরবারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ সময় তাঁকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ময়নাতদন্ত শেষে ১২ এপ্রিল স্থানীয় একটি কবরস্থানে তাঁর মরদেহ দাফন করা হয়। ওই ঘটনায় নিহত শামীম রেজার ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় খাজা আহম্মেদ, আসাদুজ্জামান আসাদ, স্থানীয় জামায়াতের কর্মী রাজিব মিস্ত্রি ও মো. শিহাবের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মরদেহ কবর থেকে তুলে নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। নতুন কবর থেকে পাওয়া বস্তুটি কার এবং কীভাবে সেটি সেখানে রাখা হয়েছে, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।