কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় লালন শাহের আখড়াবাড়িতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা ও তাঁর গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপের পর একদল যুবক হামলার চেষ্টা করে বলে তাঁর সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের দাবি। একপর্যায়ে আখড়াবাড়ির প্রধান ফটকের সামনে তাঁর বহনকারী গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে গাড়ির গ্লাস ভেঙে যায়। ঘটনার পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজনকে আখড়াবাড়ির ভেতরে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়। খবর পেয়ে কুমারখালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়। এ ঘটনায় আখড়াবাড়ি এলাকায় কিছু সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে থাকা ভেড়ামারা উপজেলা এনসিপির সদস্যসচিব শোভন আহমেদ বলেন, তাঁরা ব্যক্তিগত সফরে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। বিকেলে শিলাইদহের রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি ঘুরে সন্ধ্যায় লালন শাহের আখড়াবাড়িতে যান। সেখানে স্থানীয় শিল্পীদের গান শোনার পর বের হওয়ার সময় দুজন নারী নাসীরুদ্দীনের সঙ্গে ছবি তুলতে চান। ওই সময় তাঁকে লক্ষ্য করে একজন ডিম ছোড়েন বলে তিনি দাবি করেন। শোভন আহমেদের ভাষ্য, এরপর ২০ থেকে ২৫ জন যুবক সেখানে এসে গালাগাল করতে থাকেন এবং নাসীরুদ্দীনকে মারতে উদ্যত হন। তাঁদের কয়েকজনের হাতে লাঠি ছিল বলেও তিনি দাবি করেন। নাসীরুদ্দীনকে রক্ষায় সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা তাঁকে ঘিরে ফেলেন। এ সময় কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন বলে তাঁর দাবি। পরে আখড়াবাড়ির প্রধান ফটকের সামনে থাকা গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য ইয়াসির আরাফাতের দাবি, গাড়িতে ইট নিক্ষেপের ঘটনায় নাসীরুদ্দীনের হাতে আঘাত লাগে। এ ছাড়া আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে আহতের সংখ্যা ও তাঁদের আঘাতের ধরন সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হামলার সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপির কুষ্টিয়া জেলা শাখার সদস্যসচিব সুলতান মারুফ তালহা। তিনি কয়েকজনকে শনাক্ত করার দাবিও করেছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির রহমান রাব্বী। তিনি বলেন, নাসীরুদ্দীনের ওপর হামলা হয়ে থাকলে তা নিন্দনীয়। ছাত্রদল ‘মব কালচারের’ রাজনীতি বিশ্বাস করে না এবং এ ঘটনার সঙ্গে ছাত্রদল কোনোভাবেই জড়িত নয়। ঘটনার পর কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম বলেন, হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে গাড়ি ভাঙচুরের বিষয়টি তখন তাঁর জানা ছিল না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিরাপদে আখড়াবাড়ি এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। নাসীরুদ্দীন কখন ও কী কারণে সেখানে গিয়েছিলেন, সেটিও পুলিশকে জানানো হয়নি বলে তিনি জানান। ঘটনার পর তাঁকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয় এবং ঘটনাস্থলে আরও পুলিশ পাঠানো হয়। ঘটনাটি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এনসিপির পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। এদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) হাসনাত আবদুল্লাহ। রাত ৮টা ২৪ মিনিটের দিকে ফেসবুকে দেয়া ওই পোস্টের সঙ্গে হামলার ঘটনায় ভাঙচুর করা গাড়ির ছবিও পোস্ট করেছেন তিনি। পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ লিখেছেন, কুষ্টিয়ায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর আবারও হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিএনপি সরকারের সময় এটি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর পঞ্চমবারের মতো হামলা। বারবার হামলা, ভয়ভীতি বা দমন-পীড়ন চালিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর কণ্ঠ স্তব্ধ করা যাবে না। হাসনাত আবদুল্লাহ আরও লিখেছেন, হামলা করে পাটওয়ারীদের কেউ থামাতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না, ইনশাআল্লাহ। ন্যায়, অধিকার ও আজাদির যে লড়াই শুরু হয়েছে, কোনো বাধাই তা থামাতে পারবে না। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।