রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে বসতভিটা, সড়ক, মসজিদ ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবন হুমকির মুখে পড়েছে। নদীর সংরক্ষিত ডান তীরের প্রায় ২০ মিটার ব্লক ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিওব্যাগ ফেললেও আতঙ্ক কাটেনি নদীপাড়ের মানুষের। জানা গেছে, উজানের ঢল কমে পানি নামতে শুরু করলে গত শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোলকোন্দ ইউনিয়নে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। এতে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, শহররক্ষা বাঁধ, ফসলি জমি ও বসতবাড়ি ঝুঁকিতে পড়ে। রোববার (২৬ জুলাই) সকালে ভাঙনকবলিত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে। খবর পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম ও রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রায়হান সিরাজী এলাকা পরিদর্শন করেন। বর্তমানে ভাঙন ঠেকাতে জিওব্যাগ ফেলার কাজ চলছে। এর আগে গত সপ্তাহে উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের কাচারীপাড়া ও চর বাগডোহরা এলাকায় নদীভাঙনে ২২টি পরিবারের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, পুকুর ও সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এখনও শতাধিক পরিবার ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা শামীম মিয়া বলেন, নদীর তলদেশে পলি জমে তিস্তার নাব্যতা কমে যাওয়ায় দুই তীরেই ভাঙন বাড়ছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য নদী ড্রেজিংয়ের দাবি জানান তিনি। কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম বলেন, পলি জমে নদীতে বড় বড় চর সৃষ্টি হওয়ায় পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে তীরে চাপ বাড়ছে এবং ভাঙন দেখা দিচ্ছে। নোহালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী জানান, ইতোমধ্যে ইউনিয়নের দুই গ্রামের ২২টি পরিবার সর্বস্ব হারিয়েছে। সংসদ সদস্য মো. রায়হান সিরাজী বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন হলে প্রতিবছরের নদীভাঙন থেকে মানুষকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। তিনি জানান, ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।