প্রকাশ :: ... | ... | ...

গম ও ভুট্টা গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে বিডব্লিউএমআরআই


সংযুক্ত ছবি

দেশে গম ও ভুট্টার উৎপাদন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিডব্লিউএমআরআই)। পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সক্ষম, দেশজুড়ে চাষযোগ্য ও উচ্চফলনশীল নতুন জাত উদ্ভাবনের পাশাপাশি আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি কৃষকদের মধ্যে সম্প্রসারণ করছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে দেশে চাষ হওয়া গমের প্রায় সব জাতই বিডব্লিউএমআরআইর উদ্ভাবিত বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিডব্লিউএমআরআই সূত্রে জানা যায়, গত সাত বছরে প্রতিষ্ঠানটি গমের পাঁচটি উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন করেছে। এগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে বিডব্লিউএমআরআই-১ থেকে ৫। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৩৮টি উচ্চফলনশীল গমের জাত উদ্ভাবন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সময়ে উদ্ভাবন করা হয়েছে ২৯টি ভুট্টার জাত। এর মধ্যে ২০টি উচ্চফলনশীল হাইব্রিড জাত। এছাড়া সাদা ভুট্টা, সুইট কর্ন, বেবি কর্ন ও পপ কর্নের জাতও উদ্ভাবন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। গবেষণা ও প্রশিক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২২ সালে স্বাধীনতা পদক পাওয়া প্রতিষ্ঠানটির পথচলা শুরু হয় ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) অধীনে ‘গম গবেষণা কেন্দ্র’ হিসেবে। পরে ২০১৭ সালের ২২ নভেম্বর বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট আইন, ২০১৭-এর অধীনে স্বায়ত্তশাসিত গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে বিডব্লিউএমআরআই। দিনাজপুর সদর উপজেলার নশিপুরে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ১৪টি গবেষণা বিভাগ, গাজীপুর, জামালপুর, রাজশাহী, যশোর ও হাটহাজারীতে পাঁচটি আঞ্চলিক গবেষণা কেন্দ্র, দেবীগঞ্জে একটি বীজ উৎপাদন কেন্দ্র এবং ঠাকুরগাঁওয়ে একটি বীজ উৎপাদন উপকেন্দ্রের মাধ্যমে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রচলিত চাষপদ্ধতির পাশাপাশি কৃষকদের জন্য ২৫টি নতুন উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে চার-ফসলভিত্তিক লাভজনক ফসলধারা, পাওয়ার টিলারচালিত বীজ বপন যন্ত্রের মাধ্যমে সারিতে বীজ বপন প্রযুক্তি, ব্লাস্ট রোগের সমন্বিত দমন ব্যবস্থা, ফল আর্মিওয়ার্ম ব্যবস্থাপনা এবং অম্লীয় মাটি সংশোধনের প্রযুক্তি। সারিতে বীজ বপনের প্রযুক্তি ব্যবহারে চাষের ব্যয় প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। গবেষণার ফলাফল দেশের বাইরেও সম্প্রসারিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির উদ্ভাবিত ব্লাস্ট-প্রতিরোধী গমের ১০টি জাত ভারত, নেপাল, বলিভিয়া ও জাম্বিয়ায় অবমুক্ত করা হয়েছে। দিনাজপুর সদর উপজেলার তরঙ্গিনী গ্রামের কৃষক মো. দবিরুল ইসলাম বলেন, আগে প্রতি বিঘা জমিতে গমের ফলন ছিল পাঁচ থেকে আট মণ। বর্তমানে একই জমিতে ৩২ থেকে ৩৩ মণ পর্যন্ত গম উৎপাদন হচ্ছে। এক বিঘা জমিতে ৮০ থেকে ৯০ মণ পর্যন্ত ভুট্টাও উৎপাদিত হচ্ছে। উৎপাদন বৃদ্ধি ও ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকেরা আবারও গম ও ভুট্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। তবে দেশের গমের চাহিদার বড় অংশ এখনো আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়। বিডব্লিউএমআরআই সূত্রে জানা যায়, দেশে বছরে গমের চাহিদা প্রায় ৮০ লাখ মেট্রিক টন। বিপরীতে উৎপাদন হয় ১০ থেকে ১২ লাখ টন। ঘাটতি পূরণে প্রতিবছর প্রায় ৭০ লাখ টন গম আমদানি করতে হয়, এতে ব্যয় হয় প্রায় ২৪ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা। বিডব্লিউএমআরআইর মহাপরিচালক ড. মো. মাহফুজ বাজ্জাজ বলেন, সীমিত সম্পদের মধ্যেও প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা তাপসহনশীল, ব্লাস্ট প্রতিরোধী, স্বল্পমেয়াদি ও জিংকসমৃদ্ধ গমের জাত এবং উচ্চফলনশীল ভুট্টার জাত উদ্ভাবন করেছেন। এসব জাত ও প্রযুক্তি দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে কৃষকদের অভিযোজন সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে শুধু নতুন জাত উদ্ভাবন নয়, জলবায়ু সহনশীল, পুষ্টিসমৃদ্ধ ও অধিক উৎপাদনশীল দানাদার ফসলের প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে গমের আমদানি-নির্ভরতা কমানো, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং টেকসই খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাঁদের লক্ষ্য। এ জন্য গবেষণায় ধারাবাহিক বিনিয়োগ ও নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন। শু/আজা