বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, তিস্তা, ঘাঘট ও করতোয়া নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে জেলার সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকায় অন্তত ৭ শতাধিক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ফসলি জমি, সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনা। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বর্ষা মৌসুমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাড়িঘর সরিয়ে নিচ্ছে। তাদের পুনর্বাসনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৮০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভাঙনের শিকার হয়েছে ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ রসুলপুর, ফজলুপুর ইউনিয়নের চৌমহন চর, খাটিয়ামারি, দক্ষিণ খাটিয়ামারি, কাউয়াবাদা ও উড়িয়া ইউনিয়নের রতনপুর। এছাড়া সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাশিয়া ইউনিয়নের লালচামার ও কেরানীর চর, কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের কালির খামার, হরিপুর ইউনিয়নের চর চরিতাবাড়ীসহ সদর ও সাঘাটা উপজেলার কয়েকটি এলাকাতেও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, সুন্দরগঞ্জের লালচামার এলাকায় গত পাঁচ দিনে শতাধিক বসতবাড়ি ও দুই শতাধিক বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। অনেক পরিবার গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। কেউ সরকারি জমি বা রাস্তার পাশে অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বছরের পর বছর নদীভাঙনের শিকার হলেও স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ড্রেজিং, নদী খনন ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ না থাকায় প্রতিবছর শত শত ঘরবাড়ি ও হাজারো একর কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মমিনা বেগম বলেন, “নদীত হামার আবাদি জমি ধপাস ধপাস করি ভাঙি পড়ছে। ভয় লাগে, কখন বাড়িভিটাটুকু ভাঙি যায়।” একই এলাকার ফয়জার রহমান বলেন, “বিঘার পর বিঘা ফসলের জমি নদীর মধ্যে ভাঙি পড়ছে। এখন শুধু বাড়িভিটার একটুকু অংশ আছে।” কাপাশিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনজু মিয়া বলেন, ইউনিয়নের প্রায় সব ওয়ার্ডই চরাঞ্চলে। সাম্প্রতিক ভাঙনে শতাধিক বসতভিটা, হাজারো গাছপালা ও একটি মসজিদ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে চরাঞ্চলের অনেক গ্রাম মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যাবে। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম জানান, ভাঙনকবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা ও ডাম্পিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া ৮০ মেট্রিক টন চাল পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে।