প্রকাশ :: ... | ... | ...

ঘেরাও করে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ


সংযুক্ত ছবি

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য ডা. জাওয়াদুল হককে ঘেরাও করে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও কৃষক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। একই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের একান্ত সচিব (পিএস) নাজমুল হোসাইনকে মারধর করে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের বক্তব্যসংবলিত কাগজে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগও করেছেন তিনি। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ‘রাজশাহীর আপামর ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যালয়ে গিয়ে ‘ভিসি ঘেরাও’ কর্মসূচি পালন করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এ সময় তারা উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে স্লোগান দিয়ে তাঁর কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। পরে উপাচার্যকে ঘেরাও করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ। উপাচার্য ডা. জাওয়াদুল হকের অভিযোগ, তাঁকে বিভিন্ন সময়ে ঠিকাদারি কাজ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। ওই কাজ না দিয়ে ঢাকার একজন ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার একদল ব্যক্তি তাঁর কার্যালয়ে জোর করে ঢুকে পড়েন। ডা. জাওয়াদুল হক বলেন, তাঁকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি লাঞ্ছিত করা হয়েছে। তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে হামলাকারীদের তৈরি করা একটি পদত্যাগপত্রে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়া এবং অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগও করেন উপাচার্য। তাঁর একান্ত সচিব নাজমুল হোসাইনকেও অবরুদ্ধ করে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ডা. জাওয়াদুল হক বলেন, ‘জোর করে এভাবে কখনো পদত্যাগ করানো যায় না। এটি কোনো নিয়মতান্ত্রিক পদত্যাগ নয়, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যালয়ের সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক ও কম্পিউটারের সিপিইউ নিয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় বর্তমানে তাঁর সেখানে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই বলেও জানান তিনি। উপাচার্যের একান্ত সচিব নাজমুল হোসাইনও মারধর ও জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, রাজশাহী মহানগর কৃষক দলের আহ্বায়ক শামীম, রাজপাড়া থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন, সহসভাপতি সালাম, লক্ষ্মীপুর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শাহিনসহ কয়েকজন তাঁকে মারধর করেন। পরে চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় ইস্তফা দিতে চান—এমন বক্তব্যসংবলিত একটি কাগজে তাঁর স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। নাজমুল হোসাইন বলেন, ‘তাদের হাতে অস্ত্র ছিল। অস্ত্র ঠেকিয়ে তারা আমাকে স্বাক্ষর করায়। এটা কোনো ইস্তফা নয়, অস্ত্রের মুখে এটা করা হয়েছে।’ তবে ঘটনার সঙ্গে বিএনপি বা এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে দলটির স্থানীয় নেতারা সরাসরি কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন। রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ‘আমি ঢাকায় আছি। কারা করেছে, তা জানা নেই।’ মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ বলেন, ‘বিষয়টি কিছুক্ষণ আগে জানতে পারলাম। কারা করেছে, কেন করেছে, তা আমার জানা নেই।’ তিনি বলেন, জড়িত ব্যক্তিদের কেউ বিএনপির হলে তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে কারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যালয়ে প্রবেশ করে উপাচার্য ও তাঁর একান্ত সচিবকে ঘেরাও বা মারধর করেছে, পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষরের ঘটনায় অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগের সত্যতা কী এবং কার্যালয়ের সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক ও কম্পিউটারের সিপিইউ নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে কি না—এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।