প্রকাশ :: ... | ... | ...

চট্টগ্রামে ১১ শিক্ষকের ১০ পরীক্ষার্থী, দাখিলে পাস করেনি কেউ


সংযুক্ত ছবি

১১ জন শিক্ষক। বিপরীতে দাখিল পরীক্ষার্থী মাত্র ১০ জন। কিন্তু এবারের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সেই ১০ পরীক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এমন ফলাফল এসেছে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাঁচখাইন মহিউল উলুম দাখিল মাদ্রাসায়। ১৯৯৯ সাল থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে এবারই প্রথম এমন ফল বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম, পাঠদানের পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মাদ্রাসাটিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক রয়েছেন ৮ জন। এর বাইরে খণ্ডকালীন শিক্ষক রয়েছেন আরও ৩ জন। অর্থাৎ ১০ জন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন ১১ জন। তারপরও এবারের দাখিল পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে। রাউজানে এবারের দাখিল পরীক্ষার সামগ্রিক ফলাফলও খুব একটা সন্তোষজনক নয়। উপজেলার ২৩টি মাদ্রাসা থেকে ৯৮৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫৩৬ জন। পাসের হার ৫৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২১ জন। ২৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২টি মাদ্রাসা থেকে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি। তবে এসব ফলাফলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে পাঁচখাইন মহিউল উলুম দাখিল মাদ্রাসা। মাত্র ১০ জন পরীক্ষার্থী নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে একজনও উত্তীর্ণ না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির ফলাফলে ফুটে উঠেছে শতভাগ অকৃতকার্যতার চিত্র। স্থানীয় আবু তাহের সওদাগর অভিযোগ করেন, মাদ্রাসাটি মুষ্টিমেয় কয়েকজনের হাতে পরিচালিত হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম তদারকির তেমন সুযোগ নেই। শিক্ষকদের গাফিলতিও রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক অভিযোগ করেন, সুপারের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান দিন দিন খারাপ হয়েছে। নিয়মিত ক্লাসও হয় না বলে তাঁর দাবি। মাদ্রাসাটি তাঁর বাড়ি থেকে মাত্র ৩০০ মিটার দূরে হলেও এ বছর তিনি ছেলেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরের নোয়াপাড়া মাদ্রাসায় ভর্তি করেছেন। ওই অভিভাবকের আরও অভিযোগ, অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে বাইরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীদের এই মাদ্রাসায় রেজিস্ট্রেশন করিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তাঁর দাবি, এবার ১০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫ জনই অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ছিল। এসব শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত হতো না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পাঁচখাইন মহিউল উলুম দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মুহাম্মদ আতাউল মোস্তাফা। তিনি ফল বিপর্যয়ের জন্য পরীক্ষার্থীদের দুর্বল প্রস্তুতি ও অভিভাবকদের সীমিত সম্পৃক্ততাকে দায়ী করেছেন। মাওলানা মুহাম্মদ আতাউল মোস্তাফা বলেন, পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি দুর্বল ছিল। পাশাপাশি অভিভাবকদের সম্পৃক্ততাও সীমিত ছিল। ৮ জন এমপিওভুক্ত ও ৩ জন খণ্ডকালীন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পাঠদানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। এরপরও ফলাফল আশানুরূপ হয়নি। তিনি আরও বলেন, ১৯৯৯ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আসছে। এর আগে কখনো এমন ফল বিপর্যয় হয়নি। এবারের ফলাফল প্রতিষ্ঠানটির জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক। অন্যদিকে, রাউজানের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে এবারও ভালো অবস্থানে রয়েছে কাগতিয়া এশাতুল উলুম কামিল মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠানটির ৮৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৮৮ দশমিক ৫১ শতাংশ। একই প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বোচ্চ ৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। ফলে একই উপজেলার দুই প্রতিষ্ঠানের ফলাফলে এবার দুই ধরনের চিত্র সামনে এসেছে। একদিকে কাগতিয়া এশাতুল উলুম কামিল মাদ্রাসায় সাফল্যের ধারাবাহিকতা, অন্যদিকে পাঁচখাইন মহিউল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় শতভাগ অকৃতকার্যতার ঘটনা। এমন ফলাফলের কারণে পাঁচখাইন মহিউল উলুম দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম, পাঠদানের পরিবেশ ও পরিচালন ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. রাহাতুল ইসলাম বলেন, ‘কোনো প্রতিষ্ঠানের এমন ফলাফল কাম্য নয়। যেসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল খারাপ হয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ ও শিক্ষকদের নিয়ে সভা করা হবে। ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’