প্রকাশ :: ... | ... | ...

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে হাঁটুপানি, সড়কেই মাছ ধরছেন স্থানীয়রা


সংযুক্ত ছবি

পানিতে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক। স্থানীয় বাসিন্দারা মহাসড়কে জাল ফেলে মাছ ধরছেন।

টানা কয়েক দিনের অতি ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। এর প্রভাবে চন্দনাইশ উপজেলার হাশিমপুর, দোহাজারী বটতলাসহ বিভিন্ন স্থানে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক পানিতে ডুবে গিয়ে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। শুক্রবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে হাঁটুপানি জমে আছে। সড়কের ওপর জাল ফেলে মাছ ধরছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ অবস্থায় বাসসহ বিভিন্ন যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, টানা বৃষ্টিতে আশপাশের খাল-বিল উপচে মহাসড়কে পানি উঠে এসেছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও দূরপাল্লার যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেকেই গণপরিবহন না পেয়ে ভ্যানসহ বিকল্প বাহনে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। দক্ষিণ হাশিমপুর এলাকার বাসিন্দা ছোটন দাশ বলেন, চট্টগ্রাম শহরে যাওয়ার জন্য বের হলেও সড়কে পানি থাকায় কোনো যানবাহন পাননি। প্রায় ২০০ মিটার পানি মাড়িয়ে হাঁটতে হয়েছে, এতে জামাকাপড়ও ভিজে গেছে। দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সাঙ্গু নদীর পানি কমতে শুরু করায় পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। গতকাল মহাসড়কের চন্দনাইশ অংশ দুই থেকে আড়াই ফুট পানির নিচে থাকলেও আজ পানি কিছুটা কমেছে। চালকেরা সতর্কতার সঙ্গে যানবাহন চালাচ্ছেন এবং হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে থেকে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে। তিনি আরও জানান, চন্দনাইশ অংশ ছাড়া সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া এলাকায় মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। বৃষ্টি না হলে এবং নদীর পানি না বাড়লে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে। চন্দনাইশ উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। আটটি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার সব কটিই আংশিক প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে নিয়মিত ত্রাণ ও শুকনা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে এবং সব আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পানি দ্রুত না কমলে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। শু/আজা