শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে চিকিৎসক হিসেবে স্বীকৃত যোগ্যতা ও নিবন্ধন না থাকলেও রোগীদের চক্ষু চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার অভিযোগে মো. জাফর (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার দাসের জঙ্গল বাজারের মুক্তিযোদ্ধা ভবনের দোতলায় অবস্থিত জান্নাত মেডিকেল সেন্টারে অভিযান চালিয়ে তাকে এ দণ্ড দেওয়া হয়। অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ নওশাদ হাসান। দণ্ডপ্রাপ্ত মো. জাফর শরীয়তপুর সদর উপজেলার শেখ আলাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি জান্নাত মেডিকেল সেন্টারের মালিক বলে জানা গেছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, জাফর দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে রোগীদের চিকিৎসাসেবা ও ব্যবস্থাপত্র দিয়ে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার উপজেলা প্রশাসন সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় তার কাছে চিকিৎসা দেওয়ার প্রয়োজনীয় নিবন্ধন, বৈধ অনুমতিপত্র ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র না পাওয়ায় তাকে আটক করা হয়। পরে বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০-এর ২৯(২) ধারায় তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অভিযানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. এস মহাম্মাদুল্লাহ, গোসাইরহাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হামিদসহ পুলিশ সদস্যরা সহযোগিতা করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. এস মহাম্মাদুল্লাহ বলেন, জাফর বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের স্বীকৃত চিকিৎসক নন। চিকিৎসা দেওয়ার মতো কোনো যোগ্যতাও তার নেই। অভিযানে এসে তাকে রোগী দেখা ও ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে চিকিৎসা দেওয়া বা ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার কোনো বৈধ লাইসেন্স তার ছিল না। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ নওশাদ হাসান বলেন, চিকিৎসক না হয়েও ওই ব্যক্তি চক্ষু চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শু/আজা