প্রকাশ :: ... | ... | ...

জমি বিরোধে হামলা, মোটরসাইকেলে আগুন দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ


সংযুক্ত ছবি

জামালপুরের মাদারগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা, মোটরসাইকেলে আগুন দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা, জমি দখলের চেষ্টা, হয়রানিমূলক মামলা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। একই সঙ্গে এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জামালপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মো. রফিকুল ইসলাম, মুকুল হোসেন, সোহেল রানা ও আলম মিয়া এসব অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে বদর আলী বলেন, মাদারগঞ্জ উপজেলার হেমরাবাড়ী পশ্চিমপাড়া গ্রামের জিকু, আলাউদ্দিন, মোশারফ, শফি, খোকন, জগলু ও কুদ্দুছসহ কয়েকজনের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। রফিকুল ইসলামের অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ বিভিন্ন সময়ে হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে তাঁর কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেছে। তাঁর দাবি, এর আগে তাঁকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ২০ হাজার ও ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি আবারও তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এ অবস্থায় তিনি বাদী হয়ে মাদারগঞ্জের সি.আর আমলী আদালতে মামলা করতে বাধ্য হন বলে জানান। তাঁর ভাষ্য, আদালত মামলাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআইকে দায়িত্ব দিয়েছেন। রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, পিবিআই তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়টি জানার পর প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের একটি মামলায় ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে পুরোনো ও পরিত্যক্ত একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার ঘটনা সাজিয়েছে। তিনি বলেন, মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার ঘটনায় যাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, ঘটনার সময় তাঁরা ঘটনাস্থলে তো ছিলেনই না, এমনকি সংশ্লিষ্ট এলাকাতেও ছিলেন না। তাঁদের কেউ ঢাকায়, কেউ ট্রেনে এবং কেউ জামালপুর শহরে অবস্থান করছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। এ কারণে মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার ঘটনাসহ জমি নিয়ে বিরোধ, হামলা, চাঁদা দাবির অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট সব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান রফিকুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে মুকুল হোসেন বলেন, তাঁরা প্রশাসন ও তদন্তকারী সংস্থার কাছে কোনো পক্ষের বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে প্রযুক্তিগত ও প্রত্যক্ষ প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ঘটনার সময় অভিযুক্ত বা আসামিদের কথিত অবস্থান যাচাই করতে মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড ও লোকেশন, এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ, ট্রেন বা বাসের টিকিট এবং অন্যান্য ডিজিটাল ও প্রত্যক্ষ প্রমাণ পরীক্ষা করা প্রয়োজন। এসব তথ্য যাচাই করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে তাঁরা মনে করেন। মুকুল হোসেন আরও বলেন, ‘‘আমরা বর্তমানে এলাকায় ভয়-ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমরা প্রশাসনের কাছে আমাদের নিরাপত্তা চাই।’’ ভুক্তভোগীরা বলেন, জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে যাতে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে জমির প্রকৃত মালিকানা ও দখল নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা আইনগতভাবে নিষ্পত্তি করার দাবি জানান তাঁরা। সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা আরও বলেন, হামলা এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলাসহ সংশ্লিষ্ট সব ঘটনা পিবিআইকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। বিশেষ করে রাতে মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার ঘটনাটি কারা ঘটিয়েছে, কী উদ্দেশ্যে ঘটিয়েছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত—তা তদন্তের মাধ্যমে বের করার দাবি জানান তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, তদন্তে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। আবার অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে নির্দোষ ব্যক্তিদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে। ভুক্তভোগীরা বলেন, ‘‘আমরা বিচার চাই, প্রতিশোধ চাই না। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত চাই, সাজানো মামলা চাই না। আমরা ষড়যন্ত্রের শিকার হতে চাই না।’’ সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা প্রশাসন, পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থার প্রতি নিরপেক্ষভাবে পুরো ঘটনা তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের আহ্বান জানান। তবে সংবাদ সম্মেলনে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে, তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন এবং আইনগত প্রক্রিয়ার ফলাফলের ভিত্তিতেই এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।