প্রকাশ :: ... | ... | ...

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন হবে- রংপুরে আহমেদ আযম খান


সংযুক্ত ছবি

জুলাই আন্দোলনের অগ্রসৈনিক শহিদ আবু সাঈদের দ্বিতীয় শাহাদাৎ বার্ষিকীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই শহীদ দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করেছেন। আজ ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত, সকাল সাড়ে ৯টায় লাল ব্যাজ ধারণ ও শোক র‍্যালি, সোয়া ১০টায় শহিদ আবু সাঈদ চত্বরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও সাড়ে ১০টায় জুলাই শহীদ স্মরণে বিশেষ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। দিবসটি উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহীদ আবু সাঈদের বাবা মোঃ মকবুল হোসেন ও শহীদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জনাব ফরহাদ হোসেন আজাদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) এর সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শওকাত আলী। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন হবে। সরকার মাত্র পাঁচ মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছে। আমি আপনাদের কথা দিয়ে যাচ্ছি। ধাপে ধাপে জুলাইয়ের সব অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা হবে ইনশাআল্লাহ। ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আহমেদ আযম খান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধসহ প্রায় দুই হাজার মানুষ রক্ত দিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছেন। সেই আত্মত্যাগকে মূল্যায়ন করতে সরকার জুলাই চেতনা বাস্তবায়নে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘জুলাই অধিদপ্তর’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই অধিদপ্তরের মাধ্যমে একে একে জুলাইয়ের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন হবে। তিনি বলেন, যেই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসুক, তাকে জুলাই চেতনা ধারণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, আমরা ক্ষমতায় আসিনি, দায়িত্বে এসেছি। আমরা শাসক নই, জনগণের সেবক। আহমেদ আযম খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের সাশ্রয় নিশ্চিত করতে কাজ করছেন। রাষ্ট্রকে নিজের সম্পদ মনে করে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। রংপুরের উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, রংপুর আর বঞ্চিত থাকবে না। এখানে শিল্প-কারখানা হবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। ইতোমধ্যে সরকার এ অঞ্চলের উন্নয়নে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ধীরে ধীরে রংপুর আলোকিত অঞ্চলে পরিণত হবে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন নিয়েও আশ্বাস দেন মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের খোঁজখবর রাখছেন। শহীদ আবু সাঈদের নামে হল, গেটসহ প্রয়োজনীয় স্থাপনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে যা যা প্রয়োজন, পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন রংপুরে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের দাবি জানিয়েছেন। সরকার সেই বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।