কক্সবাজারের টেকনাফে প্রায় ২০০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে পড়ে গুরুতর আহত হওয়া বন্য মা হাতিটির মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (১২ জুলাই)সকাল ১০টার দিকে হাতিটির মৃত্যু হয়। কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, হাতিটি প্রায় ২০০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছিল। এতে তার মেরুদণ্ড ভেঙে যায় এবং পেটেও মারাত্মক আঘাত লাগে। বন বিভাগ, প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত হাতিটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। বন বিভাগ, এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের চিকিৎসকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দীর্ঘ সময় চিকিৎসা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত হাতিটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। উল্লেখ্য গত শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর প্রায় ৩টার দিকে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যাংপাড়া ১ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পাহাড়ে লতাপাতা খাওয়ার সময় টানা বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় হাতিটির পা পিছলে যায়। এতে প্রায় ২০০ ফুট নিচে পড়ে গিয়ে হাতিটি গুরুতর আহত হয় এবং আর দাঁড়াতে পারেনি। স্থানীয়রা বিষয়টি দেখতে পেয়ে দ্রুত বন বিভাগকে খবর দেন। খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে টেকনাফ উপজেলা প্রাণিসম্পদ ভেটেরিনারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করেন। পরে বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ড. মোস্তাফিজের নেতৃত্বে এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের সমন্বয়ে হাতিটির নিবিড় চিকিৎসা চালানো হয়। এদিকে হাতিটি আহত হওয়ার খবর জানার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও হাতিটির সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন। তবে সব ধরনের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও রোববার সকালে হাতিটি মারা যায়। বন বিভাগের তথ্যমতে, মৃত হাতিটির আনুমানিক বয়স ৪০ বছর। পাহাড় থেকে পড়ে তার মেরুদণ্ড ও পেছনের পা ভেঙে যাওয়ায় সে সম্পূর্ণভাবে দাঁড়াতে অক্ষম হয়ে পড়ে। অবশেষে হাতিটি মৃত্যু হয়। শু/আজা