পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া নিবির ইসলাম অনিক
ময়মনসিংহের ভালুকায় পিটিয়ে হত্যার পর মরদেহে আগুন দেওয়ার মামলায় নিবির ইসলাম অনিক (২০) নামে আরও এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার অনিক দিপু চন্দ্র দাসকে হত্যার পুড়ানোর জন্য গাছে ঝোলায় বলে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকালে জেলা পুলিশের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে পুলিশ। এর আগে, মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকালে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকার চেরাগআলী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার অনিক জেলার ত্রিশাল উপজেলার ধানীখোলা (মধ্য ভাটিবাড়ি) গ্রামের কালিমুল্লাহর ছেলে। সে ভালুকার একটি ফ্যাক্টরিতে নিটিং অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিল। পুলিশ জানায়, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখতে পায়, সাদা শার্ট পরিহিত এক যুবক দিপুর মরদেহ রশি দিয়ে টেনে গাছের ওপর তুলছে। প্রযুক্তির সহায়তায় সেই যুবককে শনাক্ত করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই অনিক পলাতক ছিল। তাকে ধরতে ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হয়। সর্বশেষ ঢাকার বনানী ও গাজীপুরের চেরাগআলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার বিকালে তাকে গ্রেপ্তার করে তদন্তকারী দল। ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঘটনার পর থেকে অনিক পলাতক ছিল। অনিকসহ এ ঘটনায় মোট ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে দিপু চন্দ্র দাসকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে উত্তেজিত জনতা। পরে তার মরদেহ বিবস্ত্র করে গাছে ঝুলিয়ে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। এঘটনায় নিহতের ছোট ভাই অপু দাস ১৯ ডিসেম্বর বাদী হয়ে অজ্ঞাত ১৫০ জনকে আসামি করে ভালুকা থানায় মামলা দায়ের করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডে জড়িত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। নিহত দিপু চন্দ্র দাস জেলার তারাকান্দা উপজেলার মোকামিয়া কান্দা গ্রামের রবি চন্দ্র দাসের ছেলে। দুই বছর ধরে ভালুকার জামিরদিয়া পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস বিডি লিমিটেড কোম্পানিতে কাজ করছিলেন।