নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে সম্ভাব্য মনোনীত প্রার্থী নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ক্ষোভ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি:
ছবি:

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাসুদুজ্জামান মাসুদের নাম সামনে আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। তারা বলছেন, ‘এমন একজনকে প্রার্থী হিসেবে দেখা তাদের জন্য অস্বস্তিকর এবং দলীয় ত্যাগ-সংগ্রামের প্রতি অসম্মানজনক। দল থেকে তাকে মনোনয়ন দেওয়ায়, তাকে সম্ভাব্য মনোনীত প্রার্থী হিসেবে দেখে আমাদের অন্তরে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।’

শনিবার সন্ধ্যায় শহরের নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের ক্যাফেটেরিয়ায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র নেতারা এই অবস্থান স্পষ্ট করেন। সভায় অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘আমরা বছরের পর বছর রাজপথে মামলার চাপ, হামলা, গ্রেপ্তারসহ নানা ঝুঁকি নিয়ে দলের পক্ষে লড়াই করেছেন। কিন্তু যে ব্যক্তিকে প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, তিনি অতীতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে ছিলেন না। বরং বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সংসদ সদস্যদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন, সুবিধাও নিয়েছেন, এমনকি তাদের নির্বাচনী প্রচারেও অংশ নিয়েছেন। তার ভাষায়, এমন একজনকে হঠাৎ করে দলের প্রার্থী হিসেবে পাওয়া তাদের জন্য হতাশাজনক।


সাখাওয়াত আরো বলেন, ‘দল চাইলে মাসুদ ছাড়া মহানগর বিএনপির সক্রিয় নেতাদের মধ্য থেকেই কাউকে প্রার্থী করতে পারে। তিনি নিজের মনোনয়ন প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করেন এবং যোগ করেন—অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বা আবু জাফর আহমেদ বাবুল—এদের মধ্যে যাকেই দল মনোনয়ন দিক, তারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন এবং ধানের শীষকে বিজয়ী করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।’

মহানগর বিএনপি নেতা আবু জাফর আহমেদ বাবুল বলেন, ‘দলের দীর্ঘদিনের কর্মীদের বাইরে গিয়ে কাউকে প্রার্থী করা হলে তা সংগঠনের ভেতরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করবে।’ তিনি স্পষ্ট করে জানান, দলের প্রকৃত কর্মীদের মধ্য থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে আমরা সবাই মিলেই তাকে বিজয়ের পথে এগিয়ে নেব।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য দেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম এবং মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাওসার আশা। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, সদস্যসচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, হোসিয়ারি সমিতির সভাপতি ও বিএনপি নেতা বদিউজ্জামান বদু, আইনজীবী সমিতির সদস্য সচিব আনোয়ার প্রধান, ডা. মজিবুর রহমান, অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলামসহ আরও অনেকে।

নেতারা শেষ পর্যন্ত দলীয় উচ্চ পর্যায়ের প্রতি আহ্বান জানান, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে এমন কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হোক, যিনি দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে ছিলেন এবং স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য।

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত