রংপুরে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে ‘রংপুর গ্রামীণ ও কুটির শিল্প মেলা’। ঘাঘট সেনা প্রয়াস পার্ক প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ মেলার যাবতীয় প্রশাসনিক অনুমতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা। তাঁদের দাবি, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি), স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের পরামর্শ ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুসরণ করেই মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। তবে মেলা আয়োজনের খবর প্রকাশের পর থেকেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন আয়োজকেরা। তাঁদের দাবি, মেলায় কোনো ধরনের অশালীন বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ থাকবে না এবং সামাজিক পরিবেশ ও প্রচলিত নিয়মকানুন মেনেই মেলা পরিচালনা করা হবে। আয়োজক কমিটি সূত্রে জানা যায়, ঘাঘট সেনা প্রয়াস পার্কের এলাকা সেনা নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় মেলায় আগত দর্শনার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুরো মেলা প্রাঙ্গণ সিসি ক্যামেরার আওতায় রাখা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ভলান্টিয়ার ও নিরাপত্তাকর্মীরা দর্শনার্থীদের সহযোগিতায় দায়িত্ব পালন করবেন। এবারের মেলার অন্যতম বিশেষ দিক হলো এর সামাজিক উদ্যোগ। আয়োজকদের ভাষ্য, মেলা পরিচালনা এবং দরপত্রের মাধ্যমে অর্জিত পুরো আয় স্থানীয় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রতিষ্ঠান ‘প্রয়াস প্রতিবন্ধী স্কুল’-এর উন্নয়ন এবং ওই প্রতিষ্ঠানের শিশুদের সার্বিক কল্যাণে ব্যয় করা হবে। মেলা প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের যাতায়াত ও বিনোদনের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। মেলার সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং পারাপারের সুবিধার জন্য ইতিমধ্যে দুটি দৃষ্টিনন্দন সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। প্রবেশপথে তৈরি করা হয়েছে আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর গেট। পুরো মেলা প্রাঙ্গণে থাকবে আলোকসজ্জা। দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য বড় পরিসরে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নামাজের জন্য নির্দিষ্ট স্থান এবং নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক শৌচাগারের ব্যবস্থা থাকবে। নারী দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা। ইভটিজিং ও যেকোনো ধরনের হয়রানি প্রতিরোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। মেলায় শিশু-কিশোরদের বিনোদনের জন্য বিভিন্ন আধুনিক রাইড, নাগরদোলা ও সার্কাসের আয়োজন থাকছে। পাশাপাশি থাকবে গ্রামীণ ও কুটির শিল্পের ঐতিহ্যবাহী সামগ্রী, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, প্রসাধনী, আধুনিক পোশাকসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্যের স্টল। সাংস্কৃতিক প্রদর্শনীরও আয়োজন থাকবে। মেলার আয়োজন ঘিরে ইতিমধ্যে রংপুরের বিভিন্ন এলাকার দর্শনার্থী ও পরিবারগুলোর মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে দাবি আয়োজকদের। মেলা নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ সম্পর্কে মেলার পরিচালক ও সমন্বয়কারী এম এ মঈন খাঁন ও বাবুল হোসেন বলেন, একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মেলা সম্পর্কে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। মেলায় কোনো অশালীন বা অনৈতিক কর্মকাণ্ড হতে দেওয়া হবে না। সব নিয়মকানুন ও সামাজিক পরিবেশ বজায় রেখেই মেলা পরিচালনা করা হবে। তাঁরা আরও বলেন, মেলা থেকে অর্জিত আয় প্রয়াস প্রতিবন্ধী স্কুলের শিশুদের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। তাঁদের মতে, রংপুরবাসীর জন্য এটি একটি সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগ। এ উদ্যোগ সফল করতে তাঁরা স্থানীয় সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।