ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের আবাসিক হোস্টেলের নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে ফেসবুকে অশালীন মন্তব্য ও কুরুচিপূর্ণ পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে মোরশেদ আলম ওরফে আদিব (২০) নামের এক শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা। পরে তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা না করায় মুচলেকা নিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। সোমবার (৩১ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। মোরশেদ আলম ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের তৃতীয় পর্বের শিক্ষার্থী। স্থানীয় ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতারা তাঁকে ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রশিবিরের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিলেও সংগঠনের স্থানীয় সভাপতি দাবি করেছেন, তিনি সক্রিয় কর্মী নন। পুলিশ, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও আবাসিক হোস্টেল সূত্রে জানা গেছে, নারী হোস্টেলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে মোরশেদের ফেসবুকে দেওয়া অশালীন মন্তব্যের বিষয়টি সোমবার রাতে জানাজানি হয়। এর প্রতিবাদে প্রথমে আবাসিক নারী শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ শুরু করেন। পরে ছাত্র হোস্টেলের শিক্ষার্থীরাও তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা মোরশেদকে আটক করে ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়ে যান। পরে কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাঁকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শিক্ষক সমিতির সভাপতি জি এম তাজউদ্দিন বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে রাতে মোরশেদকে পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছিল। তবে ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ না করায় পুলিশ মুচলেকা নিয়ে তাঁকে আবার কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। তিনি বলেন, ঘটনার পর ওই শিক্ষার্থী নারী শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চান এবং ফেসবুকে দেওয়া বিতর্কিত পোস্টটি মুছে ফেলেন। পরে ক্ষমা চেয়ে নতুন করে আরেকটি পোস্টও দেন। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে কথার পর পোস্ট ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. রুবেল মোঘল বলেন, সম্প্রতি নারী হোস্টেলের আঙিনায় পরিচ্ছন্নতার কাজ করেছিলেন কয়েকজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী। তাঁরা হোস্টেলের পাশ থেকে কী কী পেয়েছেন, তা মোরশেদ তাঁদের কাছে জানতে চান। এরপর নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে ফেসবুকে পোস্ট দেন তিনি। এ ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে আটক করে পুলিশের কাছে তুলে দেন বলে জানান রুবেল মোঘল। সাধারণ শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে অন্য কোনো পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন বলেও জানান তিনি। ঘটনাটির বিষয়ে মঙ্গলবার সকালে ইনস্টিটিউটের একাডেমিক কাউন্সিলের সভা হয়েছে। সভায় অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান শিক্ষক সমিতির সভাপতি জি এম তাজউদ্দিন। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ওই শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও পরিবেশের স্বার্থে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর ভাষ্য, তদন্ত কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে মোরশেদকে অন্য কোনো পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হতে পারে। ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি খায়ের উদ্দিন বলেন, ছাত্রশিবিরের কর্মী মোরশেদ আলমের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। তবে তিনি দাবি করেন, মোরশেদ সংগঠনের সক্রিয় কর্মী নন। খায়ের উদ্দিন বলেন, তাঁর কোনো দলীয় পদ নেই। ফলে সংগঠনগতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। তাঁর অপরাধের বিষয়ে ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে। মোরশেদকে আটকের বিষয়ে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম ও পরিদর্শক (তদন্ত) সজল কান্তি দাশের মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা সাড়া দেননি। পরে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাজিদ কামালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ছুটিতে থাকার কথা জানান। থানার ডিউটি অফিসারের কাছে জানতে চাইলে তিনি রেজিস্টার খাতা দেখে বলেন, মোরশেদ নামে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কোনো শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ রেজাউল করিমের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ঘটনাটি নিয়ে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ থাকলেও, শেষ পর্যন্ত বিষয়টি এখন ইনস্টিটিউটের গঠিত তদন্ত কমিটির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।