টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। হাসপাতালের সামনের সড়ক ও পাঁচটি ভবনের নিচতলা এখনো হাঁটু থেকে কোমরসমান পানির নিচে থাকায় স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নিচতলার জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগের সাতটি ইউনিট ডুবে যাওয়ায় চিকিৎসকেরা দ্বিতীয় তলার বারান্দায় টেবিল পেতে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যায় হাসপাতালে বন্যার পানি ঢোকার পর পরদিন তা গলাসমান উচ্চতায় পৌঁছে যায়। বর্তমানে পানি কিছুটা কমলেও হাসপাতাল চত্বর ও ভবনগুলোর নিচতলা এখনো প্লাবিত রয়েছে। হাসপাতালের ল্যাবরেটরির প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ৬০০ রোগী চিকিৎসাসেবা নিলেও যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বর্তমানে মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ জন রোগী হাসপাতালে পৌঁছাতে পারছেন। শনিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত চিকিৎসাসেবা নিতে এসেছেন মাত্র ৪৮ জন। বন্যায় ইউনিয়ন ও গ্রামীণ সড়ক ডুবে যাওয়ায় অধিকাংশ রোগী হাসপাতালে আসতে পারছেন না। গুরুতর অসুস্থ, আহত ও প্রসূতি রোগীদের স্বজনরা কোমরসমান পানি পেরিয়ে, কখনো কাঁধে বহন করে, আবার কখনো নৌকা ও ভেলায় করে হাসপাতালে নিয়ে আসছেন। হাসপাতালের মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি ৬০ বছর বয়সী ছেনু আরা জানান, শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হওয়ার পর বন্যার কারণে পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় তিনি স্বজনদের খবরও জানাতে পারছেন না। হাতে থাকা অর্থ শেষ হয়ে গেছে, এখনো কোনো ত্রাণ সহায়তাও পাননি। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. বেলাল উদ্দিন বলেন, হাসপাতাল ডুবে যাওয়ায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে পানির সংকটও তৈরি হয়েছে। বন্যার মধ্যেও হাসপাতালে ১২টি প্রসব সম্পন্ন হয়েছে। তবে এখনো হাসপাতালের জন্য কোনো ত্রাণ সহায়তা পৌঁছায়নি। রোগীদের জন্য হাসপাতাল থেকেই রান্না করা খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এদিকে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ায় বন্যার পানি কিছুটা কমলেও সাতকানিয়া পৌরসভাসহ উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন এখনো প্লাবিত। প্রায় চার লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। সাতকানিয়ার ৮৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে কয়েক হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। অনেক দুর্গত পরিবার এখনো ত্রাণ না পেয়ে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের চট্টগ্রাম উপবিভাগীয় প্রকৌশলী প্রশান্ত তালুকদার জানান, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।