কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বরযাত্রীর গাড়ি আটকে তুলে নিয়ে যাওয়া সেই নববধূর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বরযাত্রীর মাইক্রোবাস আটকে নববধূকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠার পর এবার ওই তরুণীর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তাঁকে একটি কক্ষে বসে নিজের অবস্থান নিয়ে কথা বলতে দেখা যায়। তবে ভিডিওটি কখন, কোথায় এবং কী পরিস্থিতিতে ধারণ করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি স্বেচ্ছায় ভিডিওটি দিয়েছেন কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়। সোমবার রাতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে নববধূর দুই পাশে কয়েকজন নারীকে বসে থাকতে দেখা যায়। একই কক্ষের দরজার কাছে ওই তরুণীকেই তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত আতিকুর রহমানকেও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ভিডিওতে নববধূকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি যেমনেই আইছি, জোর কইরা হোক, নিজের ইচ্ছায় হোক, যেমনেই হোক, আইছি তো আইছিই। এহন যদি যাইগাও, গেলেও তো আমার মান-সম্মান ফিরা আইতো না, আমার বাপ-মার মান-সম্মানও ফিরা আইতো না। গেইলেও কোনো লাভ নাই। আমি আইছি, এনেই থাকবাম।’ তাঁর এই বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ভিডিওর বক্তব্যের সঙ্গে আগের ঘটনাপ্রবাহের কী সম্পর্ক এবং বর্তমানে ওই তরুণী কোথায় আছেন, তা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। এর আগে রোববার রাতে হোসেনপুর উপজেলার হাজিপুর বাজার এলাকায় বরযাত্রীর মাইক্রোবাস আটকে নববধূকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে। এ সময় গাড়িটিতে ভাঙচুর চালানোরও অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর বরপক্ষ হোসেনপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়। পুলিশ ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হোসেনপুর উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের ওই তরুণীর সঙ্গে নান্দাইল উপজেলার রাজাবাড়িয়া গ্রামের আক্তার মিয়ার (২৮) বিয়ে হয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নববধূকে নিয়ে মাইক্রোবাসে করে বাড়ির দিকে রওনা হয় বরপক্ষ। রাত পৌনে আটটার দিকে গাড়িটি হাজিপুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে আতিকুর রহমানের নেতৃত্বে একদল লোক সেটি থামায়। পরে মাইক্রোবাসে ভাঙচুর চালিয়ে নববধূকে গাড়ি থেকে নামিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার পর আতিকুর রহমান নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লেখেন, ‘জীবনে আর কিছু চাওয়ার নাই..!’ ওই পোস্টের পর তাঁর ছড়িয়ে পড়া যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যও পাওয়া গেছে। নববধূর পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ বলছে, আতিকুর দীর্ঘদিন ধরে ওই তরুণীকে উত্ত্যক্ত করতেন। তবে স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ওই তরুণীর সঙ্গে আতিকুরের আগে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং পরিবার সেই সম্পর্কে সম্মতি না দেওয়ায় তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। পুলিশ বলছে, এসব দাবির সত্যতা এখনো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তবে বরপক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। নববধূর ভিডিও বার্তার বিষয়টিও পুলিশের নজরে এসেছে। তিনি বলেন, কেউ মামলা করলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আতিকুর রহমানের ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়েও আলোচনা চলছে। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শরীফুল ইসলাম বলেন, আতিকুর ছাত্রদলের সমর্থক। তবে তিনি সংগঠনের কোনো পদে নেই। তাই তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। এদিকে নববধূর ভিডিও প্রকাশের পর ঘটনাটি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। একদিকে বরপক্ষের অভিযোগ, মাইক্রোবাস থামিয়ে ভাঙচুর করে নববধূকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে; অন্যদিকে ভিডিওতে ওই তরুণীকে বলতে শোনা যাচ্ছে, তিনি ‘আইছি তো আইছিই’ এবং ‘এনেই থাকবাম’। ফলে তাঁকে কী পরিস্থিতিতে সেখানে রাখা হয়েছে, ভিডিও ধারণের সময় তিনি স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ পেয়েছিলেন কি না এবং তাঁর প্রকৃত ইচ্ছা কী—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তের ওপর নির্ভর করছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা স্পষ্ট হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।