বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক ও সহযোগী অধ্যাপক মো. মাসুদ রানাকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন সহকারী প্রক্টর আব্দুল্লাহ আল মাহবুব, বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট আমির শরিফ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজিউল ইসলাম জীবন এবং রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হারুন-আল রশিদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তদন্ত কমিটিকে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি। তবে দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এর আগে সোমবার (৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এলইডি স্ক্রিনে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন এবং জুলাইসহ বিভিন্ন সময়ের ঘটনার ব্যানার-ফেস্টুন প্রদর্শন করে বেরোবি শাখা ছাত্রশিবির। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রদর্শিত একটি ফেস্টুনে যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াতের কয়েকজন সাবেক নেতার পাশাপাশি বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ছবি ছিল। এ নিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ফেস্টুন অপসারণের দাবিতে কর্মসূচিস্থলে গেলে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ছাত্রশিবিরের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রদলের পক্ষ থেকে চেয়ার ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হলে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে পাল্টা ধাওয়া দেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সোহেল রানা, বর্তমান সেক্রেটারি ইমরান খান সৌরভ, শিবির-সমর্থিত ব্রাকসুর জিএস প্রার্থী মেহেদী হাসান, বাইতুল মাল সম্পাদক বাইজিদ শিকদার, মুরসালিনসহ এবং ছাত্রদল নেতা আশিকসহ দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। শু/আজা