প্রকাশ :: ... | ... | ...

মেসে চুরির অপবাদে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে মারধর, হাসপাতালে মৃত্যু


সংযুক্ত ছবি

খুলনায় মেসের ছাদ থেকে পড়ে নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আজমল হোসেনের মৃত্যু; পরিবারের অভিযোগ, আগে তাকে মারধর করা হয় খুলনায় চুরির অভিযোগে মারধরের পর পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে আজমল হোসেন (২২) নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, কয়েকজন শিক্ষার্থী চুরির অপবাদ দিয়ে আজমলকে মারধর করে ছাদে নিয়ে যান। পরে তিনি নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। তিনি নিজে লাফ দিয়েছিলেন, নাকি তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছিল—তা এখনো নিশ্চিত নয়। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে নগরীর ইসলামনগর রোডে এ ঘটনা ঘটে। আজমল নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি ওই এলাকার একটি মেসে থাকতেন। তাঁর বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা এলাকায়। নিহতের বাবা কুতুব উদ্দিনের অভিযোগ, শুক্রবার রাত ১২টার পর আজমলের মোবাইল ফোন থেকে এক যুবক তাঁকে ফোন করে এক লাখ টাকা নিয়ে দ্রুত খুলনায় আসতে বলেন। ফোনে বলা হয়, আজমল তাঁদের জিনিসপত্র চুরি করেছেন। কুতুব উদ্দিন বলেন, “কয়েকজন ছেলে ফোন করে বলে, আপনার ছেলে আমাদের জিনিস চুরি করছে। এখনই এক লাখ টাকা দিতে হবে। আমি বলি, আমি যত দ্রুত পারি খুলনায় আসছি।” এরপর তিনি রাতেই খুলনার উদ্দেশে রওনা হন। ভোরে মেসে গিয়ে ছেলেকে না পেয়ে জানতে পারেন, আজমলকে মারধরের পর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পরে হাসপাতালে গিয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানতে পারেন তিনি। পরিবার জানায়, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আজমল খুলনায় পৌঁছান। রাত ৯টার দিকে পরিবারের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়। তখন তিনি ভালো আছেন বলে জানিয়েছিলেন। স্থানীয় এক শিক্ষার্থী লাবিব বিশ্বাস রাসেল বলেন, “চুরির অভিযোগে মেহেদীসহ কয়েকজন আজমলকে ছাদে নিয়ে যান। সেখানে তাকে মারধর করা হয়।” তবে এরপর কীভাবে আজমল নিচে পড়ে যান, তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাত পৌনে ১টার দিকে ভবন থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনেছেন তাঁরা। পাশের ভবনের এক নারী জানান, জোরে শব্দ শুনে বাইরে এসে তিনি গলিতে একজনকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। গুরুতর আহত আজমলকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্র জানায়, তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং দুই পা ভাঙা ছিল। হাসপাতালে নেওয়ার ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়। হরিণটানা থানার ওসি ইকবাল হোসেন বলেন, চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে ওই ভবনে ঝামেলা হয়েছিল বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। আজমলকে চুরির অভিযোগে ধরে মারধর করা হয়েছিল এবং পরে তিনি ছাদ থেকে পড়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে মারা যান বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। নিহতের বাবার এক লাখ টাকা দাবির অভিযোগের বিষয়ে ওসি বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে এমন কথা জানানো হয়েছে। এর সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। হরিণটানা থানার ওসি তদন্ত মো. মুরাদ হোসেন মিলন বলেন, “ঘটনাটির আমরা তদন্ত করছি। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।” শনিবার ময়নাতদন্ত শেষে আজমলের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে মরদেহ নিয়ে চুয়াডাঙ্গার উদ্দেশে রওনা হন পরিবারের সদস্যরা।