অসুস্থ বৃদ্ধ বাবাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মেয়ের বিরুদ্ধে। নিহত বৃদ্ধ তৈয়ব আলী সরকারের আরেক মেয়ের দায়ের করা হত্যা মামলার আড়াই মাস পর আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, গত ৪ আগস্ট মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার নলডাঙ্গা এলাকার কবরস্থান থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোস্তাফিজুর রহমানের উপস্থিতিতে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়। নিহত তৈয়ব আলী সরকারের বাড়ি সাদুল্লাপুর উপজেলার তালুক সাহাবাজ গ্রামে। গত ২৩ জুন তাঁর বড় মেয়ে কহিনুর বেগম (৬০) বাদী হয়ে ছোট বোন রহিমা বেগম (৪৫)সহ চারজনের নাম উল্লেখ করে আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন রহিমা বেগমের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার (২৫), সুমাইয়া আক্তারের স্বামী হামিদুল ইসলাম (৩৫) এবং নলডাঙ্গা ইসলামী ব্যাংকের ম্যানেজার সোহাগ মিয়া। পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ইসলামী ব্যাংক নলডাঙ্গা শাখায় তৈয়ব আলীর প্রায় ১৮ লাখ টাকা জমা ছিল। ওই টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে ছোট মেয়ে রহিমা বাবার চেক বই চুরি করেন। চেক বই হারানোর বিষয়টি বুঝতে পেরে তৈয়ব আলী ২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি ব্যাংকে লিখিতভাবে জানান এবং তাঁর হিসাব থেকে কেউ টাকা তুলতে এলে যেন তা না দেওয়া হয়, সে বিষয়েও অনুরোধ করেন। মামলার বিবরণে বলা হয়, চলতি বছরের ১৪ মার্চ মেয়ে রহিমা অসুস্থ বাবাকে চিকিৎসার কথা বলে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় বড় মেয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য বাবাকে রংপুর নিতে চাইলে রহিমা তাতে বাধা দেন। অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীকালে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশ করে জোরপূর্বক তৈয়ব আলীর কাছ থেকে চেকের পাতায় স্বাক্ষর নেন এবং দুই দফায় ব্যাংক থেকে ১৭ লাখ ৭২ হাজার ৬৩৮ টাকা তুলে আত্মসাৎ করেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিয়ে টাকা উত্তোলনের বিষয়টি বৃদ্ধ যেন কাউকে জানাতে না পারেন, সেই আশঙ্কা থেকে গত ১৯ মে রাত ১১টার দিকে রহিমা অন্যান্য আসামিদের সহায়তায় বাবাকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। হত্যার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে দ্রুত তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়। সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, মরদেহ উত্তোলনের পর ময়নাতদন্তের জন্য প্রথমে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। পরে উন্নত ময়নাতদন্তের স্বার্থে ৫ আগস্ট বুধবার সকালে মরদেহটি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং প্রতিবেদন অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।