লালমনিরহাট শহরের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা মিশন মোড়ের অবস্থিত ‘হোটেল সীমান্ত আবাসিক’-এর বিরুদ্ধে নারী-পুরুষকে রুম ভাড়া দিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং ভিডিও চিত্র ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সামাজিক নিরাপত্তার উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয় এক নারী ও এক পুরুষকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের লালমনিরহাট সদর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, হোটেলটির আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে আসছে একটি চক্র। প্রেমিক যুগল কিংবা অতিথি হোটেলে উঠলে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সিসিটিভি ক্যামেরা বা গোপনে ডিভাইস ব্যবহার করে তাদের ব্যক্তিগত ভিডিও ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে সেসব ফুটেজ দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া হোটেলে কক্ষ ভাড়া নিতে কেউ ভুল তথ্য দিলেও শিকার হতে হয় ব্লাকমেইলের। তবে লোকলজ্জা ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষায় অনেক ভুক্তভোগীই ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়েও আইনি পদক্ষেপ নিতে সাহস পান না। এর আগে একই হোটেলকে ঘিরে আরও একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মতিউর রহমান (২৮) নামে এক ব্যক্তি। লালমনিরহাট সদর থানায় দেওয়া অভিযোগে তিনি দাবি করেন, গত ২৫ জুলাই স্ত্রীকে নিয়ে হোটেলটির একটি কক্ষ ভাড়া নেন। পরদিন সকালে হোটেল থেকে বের হওয়ার সময় মালিকের পক্ষের লোকজন তার কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে তাদের যেতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে বিকাশের মাধ্যমে আরও টাকা দেওয়ার পর তাদের হোটেল থেকে বের হতে দেওয়া হয়। এ সময় তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া এবং তার স্ত্রীকে অন্য কক্ষে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টারও অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন মতিউর রহমান। সচেতন মহলের দাবি, হোটেল কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্টদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, ডিজিটাল ডিভাইস ও সিসিটিভি ফুটেজ সঠিকভাবে অনুসন্ধান করলে গোপন রেকর্ডিং সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য ও ভিডিও প্রমাণ পাওয়া যেতে পারে। এছাড়া প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে প্রশাসন ও বিভিন্ন মহলের নাম ভাঙিয়ে হোটেলে নিয়মিত আড্ডা জমানোর অভিযোগও রয়েছে, যা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলেই স্পষ্ট হবে। লালমনিরহাট শহরের বাণিজ্যিক ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা মিশন মোড়কে পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ রাখতে স্থানীয় বাসিন্দারা আবাসিক হোটেলগুলোতে নিয়মিত তদারকি, অতিথিদের জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। অভিযোগের বিষয়ে হোটেল সীমান্তের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক আল মামুন শুভ্র বলেন, শুক্রবার রাতে কাপল এসে তথ্য অসংগতি দিয়েছে এবং তারা ভিডিও ধারন করি মর্মে অভিযোগ তোলে। পরে হট্টগোল হলে পুলিশের শরণাপন্ন হয়েছি্ তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি সময়ে আমার হোটেলকে নিয়ে একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র করছে। তবে টাকা গ্রহনের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। এ বিষয়ে লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) সাদ আহমেদ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে ঐ নারী পুরুষকে থানায় নিয়ে আসে ।পরে তাদের পরিবারের জিম্মায় দেয়া হয়েছে। এধরনের নৈতিক কার্যক্রমের অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। শু/আজা