পটুয়াখালী সদর উপজেলায় সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আনসার ঘরামী নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে গ্রেপ্তারের আগে স্থানীয় কয়েকজন তাকে মারধর, জুতার মালা পরানো এবং বিবস্ত্র করে এলাকায় ঘোরান বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার সকালে পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের কাজিরহাট বাজার এলাকা থেকে আনসারকে আটক করা হয়। পরে তাকে থানায় নেওয়া হয়। বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শিশুটির পরিবার ও মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে পাখির বাসা দেখানোর কথা বলে শিশুটিকে উত্তর হাজিখালী গ্রামের একটি নির্জন ঘরে নিয়ে যান আনসার। সেখানে শিশুটির জামাকাপড় খুলে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় আশপাশে লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে আনসার সেখান থেকে পালিয়ে যান বলে পরিবারের দাবি। ঘটনার পর শিশুটির পরিবার থানায় মামলা করে। ওই মামলায় পুলিশ আনসারকে গ্রেপ্তার করে। এদিকে মঙ্গলবার সকালে আনসার কাজিরহাট বাজারে গেলে কয়েকজন তাকে আটক করে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে তার গলায় জুতার মালা পরিয়ে এবং বিবস্ত্র করে কাজিরহাট বাজার ও কাজিরহাট ব্রিজ এলাকায় ঘোরানো হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজন ব্যক্তিকে আনসারের গলায় জুতার মালা পরিয়ে রাখতে দেখা যায়। অন্য একটি ভিডিওতে তাকে বিবস্ত্র অবস্থায় জামার কলার ধরে ব্রিজের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে নিয়ে যেতে দেখা যায়। ভিডিওতে কয়েকজনকে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগ তুলে ওই যুবককে শাস্তি দেওয়ার কথা বলতে শোনা যায়। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, কাজিরহাট এলাকার ব্যবসায়ী মিলন মৃধা, মোটরসাইকেলচালক আশরাফ গাজীসহ আরও কয়েকজন ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশও এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কাউকে এ ঘটনায় আটক বা গ্রেপ্তারের কথা জানায়নি। আনসারের বোন লিপি আক্তার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার ভাই মানসিকভাবে অসুস্থ এবং প্রায় এক বছর ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, ভাইকে মারধরের পর জুতার মালা পরিয়ে বিবস্ত্র করে প্রকাশ্যে ঘোরানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা খাদিজা বেগমও আনসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের আগেই তাকে মারধর ও বিবস্ত্র করে ঘোরানো ঠিক হয়নি। অন্যদিকে শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, আনসারই শিশুটিকে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেছেন। বিষয়টি এখন পুলিশের তদন্ত ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। আনসারকে বিবস্ত্র করে ঘোরানোর ভিডিও সম্পর্কে জানতে চাইলে ওসি বলেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না। ভিডিওটি পাওয়ার পর খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনজীবীরা বলছেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকলেও তদন্ত ও বিচার ছাড়া তাকে শাস্তি দেওয়ার এখতিয়ার কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নেই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আদালতের মাধ্যমে শাস্তির বিধান রয়েছে। একইভাবে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের আগেই কাউকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করাও আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।