প্রকাশ :: ... | ... | ...

সরিষাবাড়ীতে ভূমি অফিসে অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ


সংযুক্ত ছবি

সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য—হয়রানিমুক্ত, স্বচ্ছ ও ডিজিটাল ভূমি সেবা নিশ্চিত করা। তবে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন ভূমি অফিসের বাস্তব চিত্র নিয়ে উঠেছে ভিন্নধর্মী অভিযোগ। নামজারিতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, পুরোনো রেকর্ডের ভিত্তিতে অস্পষ্ট নোটিশ প্রদান এবং সাধারণ মানুষকে অযথা অফিসে ঘুরানোর অভিযোগে ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। সরেজমিনে ভুক্তভোগী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভূমি অফিসে সেবা নিতে গিয়ে অনেকেই অনিশ্চয়তা, হয়রানি এবং অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের মুখে পড়ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারি সেবা পেতে গিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ বাড়ছে বলেও দাবি তাদের। সরকারি বিধি অনুযায়ী জমির খারিজ (নামজারি) করতে মোট ফি ১ হাজার ১৭০ টাকা। আবেদন জমা দেওয়ার সময় অনলাইনে ৭০ টাকা এবং আবেদন অনুমোদনের পর ডিসিআর বাবদ ১ হাজার ১০০ টাকা পরিশোধ করলেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা। তবে একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বাস্তবে একটি নামজারি সম্পন্ন করতে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হচ্ছে। পিংনা, পোগলদিঘা, ডোয়াইল, সাতপোয়া, কামরাবাদ ও মহাদান ইউনিয়নের একাধিক ভুক্তভোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অতিরিক্ত অর্থ না দিলে আবেদন দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখা হয় অথবা বিভিন্ন অজুহাতে নতুন জটিলতা সৃষ্টি করা হয়। এদিকে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে বহু বছর আগের তথ্য ও রেকর্ডের ভিত্তিতে পাঠানো নোটিশ। অভিযোগ রয়েছে, এসব নোটিশে অভিযোগের প্রকৃতি, কারণ কিংবা সংশ্লিষ্ট জমির বিরোধের বিস্তারিত উল্লেখ না করে কেবল আইনের একটি ধারা উল্লেখ করে সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ভূমি অফিসে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এমন নোটিশ হাতে পেয়ে অনেকেই বুঝতে পারছেন না, ঠিক কোন অভিযোগে তাদের তলব করা হয়েছে। ফলে উদ্বিগ্ন হয়ে তারা বারবার ভূমি অফিসে ছুটছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অস্পষ্টতার সুযোগে সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয় হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সম্পর্কে অবগত না করেই তাদের দিনের পর দিন ভূমি অফিসে যেতে হচ্ছে। এতে সময়, অর্থ ও শ্রমের অপচয়ের পাশাপাশি সরকারি সেবার প্রতি মানুষের আস্থাও ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন। স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, অভিযোগগুলো সত্য হলে এটি শুধু প্রশাসনিক দুর্বলতার বিষয় নয়, বরং জনসেবা ব্যবস্থায় জবাবদিহির সংকটেরও ইঙ্গিত বহন করে। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, নামজারিতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ খতিয়ে দেখা, অস্পষ্ট নোটিশ প্রদান বন্ধ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীমের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, তিনি বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে ভুক্তভোগীদের বক্তব্য শুনবেন এবং অভিযোগগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ভূমিকা রাখবেন।