সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে অশ্লীল ছবি ও ভিডিও তৈরি, প্রচার এবং অর্থের বিনিময়ে সরবরাহের অভিযোগে সুমাইয়া সাইদ নামে এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। একই ঘটনায় তাঁর সহযোগী খাজা সাকলাইন ফারুককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে এসব কনটেন্ট বিক্রি এবং মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম ভাটারা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সুমাইয়াকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড্ডা লিংক রোড এলাকা থেকে ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে একাধিক স্মার্টফোন, এর মধ্যে একটি আইফোন ও একটি ওয়ানপ্লাস ফোন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীদের ভাষ্য, সুমাইয়ার ব্যবহৃত ইনস্টাগ্রাম ও টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিওর বিজ্ঞাপন দেওয়া হতো। নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে আগ্রহী ব্যক্তিদের কাছে এসব কনটেন্ট সরবরাহ করা হতো। পুলিশের সাইবার মনিটরিংয়ের সময় গত ১০ আগস্ট এসব অ্যাকাউন্টে এমন কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া যায় বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, কনটেন্ট বিক্রির জন্য বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজের বিজ্ঞাপন দেওয়া হতো। এর মধ্যে ৩ হাজার ৫০০ টাকার বিনিময়ে ‘লাইফটাইম প্যাকেজ’ দেওয়ার কথাও উল্লেখ ছিল। অর্থ লেনদেনে মোবাইল ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করা হতো বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের দাবি, সুমাইয়াকে জিজ্ঞাসাবাদে এই কার্যক্রমের সঙ্গে ফারুকের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। পরে তাঁকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তকারীরা এখন তাঁদের ব্যবহৃত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট, ডিভাইস এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাই করছেন। তদন্তে সুমাইয়ার পরিবারের সদস্যদের কেউ এ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ছিলেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফল প্রকাশের আগে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, কনটেন্ট তৈরির সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না এবং এসব কনটেন্টের মাধ্যমে কত টাকা লেনদেন হয়েছে—এসব বিষয় তদন্ত করা হচ্ছে। উদ্ধার করা মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের তথ্য বিশ্লেষণ করে চক্রটির কার্যক্রম সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর কনটেন্টের বাণিজ্যিক ব্যবহার নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বেড়েছে। বিশেষ করে অনলাইনে অর্থের বিনিময়ে অশ্লীল কনটেন্ট সরবরাহ, ডিজিটাল প্রতারণা এবং এসব কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত আর্থিক লেনদেনের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির সংখ্যা বা মোট আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।