প্রকাশ :: ... | ... | ...

সুগন্ধায় ৫শ'কোটি টাকার সরকারি জমি দখলমুক্ত করল প্রশাসন


সংযুক্ত ছবি

কক্সবাজার শহরের অত্যন্ত জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন জোন সুগন্ধা পয়েন্টে কয়েকশো কোটি টাকা মূল্যের প্রায় ৩ একর সরকারি খাস জমি অবৈধ দখলমুক্ত করেছে জেলা প্রশাসন। কোটি টাকার সরকারি খাসজমি উদ্ধারের পর জনমনে একটি বড় প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে প্রশাসন কি আদতে এই দখল স্থায়ীভাবে টেকাতে পারবে, নাকি এটি কেবল সাময়িক আইওয়াশ? নাগরিক সংগঠন আমরা কক্সবাজারবাসির সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দীন বলেন, জেলা প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ প্রশংসনীয় হলেও অতীতে এমন অনেক জমি উদ্ধারের পর আবারও তা প্রভাবশালী মহলের দখলে চলে যাওয়ার নজির রয়েছে। সৈকত তীরবর্তী খাসজমিগুলো দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত ও উন্মুক্ত থাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র বারবার সুযোগ নেয়। ​শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে দায় সারলে চলবে না, উদ্ধারকৃত জমিগুলোতে সরকারের স্থায়ী সাইনবোর্ড টাঙানোর পাশাপাশি দৃশ্যমান কোনো সরকারি প্রকল্প বা স্থায়ী বেষ্টনী তৈরি করতে হবে। ​যতদিন পর্যন্ত জমিগুলো ফাঁকা পড়ে থাকবে, ততদিন রাঘববোয়ালদের কুনজর এ থেকে সরবে না। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা কক্সবাজার জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, অতীতে সৈকত এলাকায় বহুবার বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা ও প্লট দখলমুক্ত করার পরও স্থায়ী কোনো সুফল দেখা যায়নি। সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে অতীতে অনেকবার অবৈধ ঝুপড়ি দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। কিন্তু কিছু দিন যেতে না যেতেই অদৃশ্য ইশারায় বা প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় সেই একই স্থানে আবারও দোকানপাট গড়ে উঠেছে। সৈকত তীরবর্তী যেসব সরকারি প্লট বা পর্যটন প্রকল্প অবৈধ দখল থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল, বর্তমানে সেগুলোর বেশিরভাগই অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে উদ্ধারকৃত সেই জমিগুলো হাতবদল হয়ে পুনরায় ভূমিখেকোদের পেটে চলে গেছে। ​শুধু একটি আকস্মিক উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে ছবি তোলা বা সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়াই প্রশাসনের কাজ শেষ হতে পারে না। তিনি আরো বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে দীর্ঘমেয়াদী কোনো নজরদারি না থাকায় দখলদাররা সুযোগ পায়। অভিযান শেষ হওয়ার কয়েক দিন পর যখন নজরদারি কমে যায়, তখন রাঘববোয়ালরা আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে। ​রবিবার (১৬ আগস্ট) বিকেল ৫টায় পরিচালিত এই উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহামুদুর রহমান সায়েম। ​এর আগে গত শনিবার মধ্যরাতে স্থানীয় একদল প্রভাবশালী যুবক প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন শ্রমিক লাগিয়ে বাঁশ ও টিন দিয়ে সুগন্ধা এলাকার প্রায় ১০ একর সরকারি খাস জমি ঘিরে ফেলে। যার বাজারমূল্য ৫০০ কোটি টাকারও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছিল। পরের দিন সকালে এই জবরদখলের দৃশ্য জানাজানি হলে জেলাজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। ​অবস্থা বেগতিক দেখে এবং সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রবিবার বিকেলে দ্রুত অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে গড়ে তোলা সমস্ত ঘেরাও ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ​অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহামুদুর রহমান সায়েম গণমাধ্যমকে জানান,​শনিবার রাতে সুগন্ধায় সরকারি জমি দখলের খবর পেয়ে রবিবার বিকেলে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে সমস্ত ঘেরাও গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারি জমি দখল করে কেউ পার পাবে না। যাঁরা এই দখলের সাথে জড়িত, তাঁদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ​তিনি আরো জানান, দখলমুক্ত করা ওই জমিতে জেলা প্রশাসনের সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে কেউ পুনরায় দখলের চেষ্টা চালালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শু/আজা