প্রকাশ :: ... | ... | ...

সেন্টমার্টিনে কেয়াগাছ কেটে রিসোর্ট নির্মাণের অভিযোগে মামলা


সংযুক্ত ছবি

সেন্টমার্টিন দ্বীপে কেয়াগাছ কেটে রিসোর্ট নির্মাণের অভিযোগে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে বনবিভাগ। টেকনাফ থানায় বাদী হয়ে মামলাটি করেন পরিবেশ অধিদফতর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মুসাইব ইবনে রহমান। অভিযুক্তরা হলেন—দ্বীপের দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে কেফায়েত আল্লাহ এবং রিসোর্ট মালিক নুর মোহাম্মদ খান। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, দ্বীপের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণপাড়া এলাকায় রিসোর্ট নির্মাণের জন্য কয়েকটি কেয়াগাছ কাটা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর পরিবেশ অধিদফতরের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পায়। পরিবেশ অধিদফতর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিচালক জমির উদ্দিন জানান, সৈকতের পাশে গাছ কাটা এবং অবৈধভাবে রিসোর্ট নির্মাণের অভিযোগে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তে যদি আরও কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে সেন্টমার্টিনকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করা হয়। ইসিএ বিধিমালা অনুযায়ী, দ্বীপে এমন কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না যা পানি, মাটি, বায়ু বা জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করে। পরে ২০২২ সালে সরকার সেন্টমার্টিনকে মেরিন প্রটেকটেড এরিয়া (এমপিএ) হিসেবেও ঘোষণা করে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যটনকেন্দ্রিক অবকাঠামো নির্মাণের চাপ, অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং গাছপালা নিধনের কারণে দ্বীপের পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বর্তমানে দ্বীপে ২৩৭টির বেশি হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ গড়ে উঠেছে। একসময় যেখানে ১৪১ প্রজাতির প্রবাল ছিল, তা কমে বর্তমানে প্রায় ৪০ প্রজাতিতে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে বৃক্ষ আচ্ছাদিত এলাকার পরিমাণও কমে গেছে। পরিবেশবিদদের মতে, সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ হওয়ায় এর জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কঠোর নজরদারি ও আইন প্রয়োগ জরুরি। অন্যথায় পর্যটনের চাপ ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের ফলে দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।