ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ১৫ বছর বয়সী কিশোরী লামিয়া আক্তারের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, স্বামী ও শাশুড়ির নির্যাতনের পর তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। মৃত্যুর পর লামিয়ার মরদেহ ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে স্বামী রনি শেখ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা চলে যান বলেও অভিযোগ করেছে পরিবার। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। লামিয়া উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদি সাহাপাড়া গ্রামের লিটু মাতুব্বরের মেয়ে। সে নানাবাড়িতে থেকে স্থানীয় মুনসুরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। অভিযুক্ত রনি শেখ কাপুড়িয়া সদরদী এলাকার সোবহান শেখের ছেলে এবং পেশায় গ্যারেজ মিস্ত্রি। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্কুলে যাওয়া-আসার পথে রনির সঙ্গে লামিয়ার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ২০ জুলাই লামিয়া রনির সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে। পরে চলতি মাসে দুই পরিবারের সদস্যরা তাঁদের বিয়ে মেনে নেন। প্রায় এক সপ্তাহ আগে মুনসুরাবাদ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় তাঁরা সংসার শুরু করেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে লামিয়ার মৃত্যুর খবর পান স্বজনরা। রাত ১০টার দিকে তাঁরা ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে লামিয়ার মরদেহ দেখতে পান। পরিবারের অভিযোগ, মরদেহ হাসপাতালে রেখে রনি ও তাঁর পরিবারের লোকজন সেখান থেকে চলে যান। লামিয়ার নানা আব্দুল ওয়াদুদ খালাসি অভিযোগ করেন, ভাড়া বাসায় ওঠার পর থেকেই তাঁর নাতনিকে স্বামী ও শাশুড়ি নির্যাতন করতেন। তাঁর দাবি, লামিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর গলায় আঙুলের ছাপ এবং মুখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। আব্দুল ওয়াদুদ খালাসির ভাষ্য, রনির মা তাঁদের ফোন করে জানান, লামিয়া গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। পরে তাঁরা হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। সেখানে রনি বা তাঁর পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও রনিকে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে। তবে পরিবারের এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। স্থানীয় একটি হাসপাতাল সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে লামিয়াকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনার কথা এবং তাঁর গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করছে পুলিশ। ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল থেকে লামিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এদিকে লামিয়ার মৃত্যুকে ঘিরে তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পরিবারের অভিযোগের পাশাপাশি পুলিশ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ঘটনাস্থলের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে।